খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ফেরিঘাট দেবেন বাবু রোড এলাকায় মারপিটের ঘটনার মিথ্যা মামলায় নিরীহ এলাকাবাসীকে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার সাথে জড়িত নয় এমন কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলায় আসামী করা হয়েছে বলে ভূক্তভোগীরা দাবি করেছেন।
উক্ত মামলায় সুষ্ঠ তদন্ত পূর্বক প্রকৃতপক্ষে ঘটনায় জড়িত ও মিথ্যা মামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে পুলিশ কমিশনারসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগীরা ও এলাকাবাসী।
মামলার আসামী ভুক্তভোগী রানা, ফয়সাল ও সাকিব জানান, মামলার বাদী ফারুক মোল্লাসহ এলাকার কিছু রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় ওয়ার্ড শ্রমিক লীগ নেতা লাভলু পাটোয়ারী, হালিম মোল্লা, যুবলীগ কর্মী বাপ্পীসহ সন্ত্রাসীরা দেবেন বাবু রোডের সাবেক বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা উইং কমান্ডার (অব:) সৈয়দ নুরুল হুদা এবং তার ভাই ২০নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ নুরুল বাশারের বাড়ী অবৈধভাবে দখলে রেখেছে।
এ অবৈধ দখল নিয়ে দখলকারীরা প্রায়ই নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এরা সবাই খুন ডাকাতিসহ একাধিক মামলার চিহ্নিত আসামী। এলাকায় এদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে এলাকার মানুষ অতিষ্ট। এর মধ্যে কিছুদিন আগে লাভলু পাটোয়ারীর ছোট ভাই ভুলু পাটোয়ারী দুই বোনকে বিয়ে করে সংসার শুরু করে এ নিয়ে ঝগড়া বিবাদ এবং মামলা মকোদ্দমা লেগে থাকায় এলাকায় এ ঘটনায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিলো।
এ নিয়ে গত ২৮ আগস্ট রবিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টায় এলাকাবাসী এ ঘটনার প্রতিবাদ করে লাভলু পাটোয়ারী এবং ভুলু পাটোয়ারীর কাছে জানতে চাইলে দু‘পক্ষের মধ্যে বাক-বিতান্ড শুরু হয়। এসময়ে মামলার বাদী ফারুক মোল্লা, ভুলু পাটোয়ারীর পক্ষ নিয়ে কথা বললে এলাকাবাসী তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়। এসময়ে ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে ফারুক মোল্লা পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পায়।
এলাকাবাসীর অনেকেই এ ঘটনায় আহত হয়েছে। আমরা সাধারণ প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ঐদিন সেখানে উপস্থিত ছিলাম। ঘটনায় দু‘দিন পরে আমরা জানতে পারি ফারুক মোল্লা আমাদের নামে মামলা করেছে। আমরা কোন কিছুতে জড়িত না হয়েও এ ঘটনায় মামলার আসামী হলাম। এলাকার সন্ত্রাসী কার্যক্রমে যারা লিপ্ত তারাই চক্রান্ত করে এ মামলায় আমাদের আসামী করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীরা জানান, ঘটনার দিন রাতে খুন-ডাকাতিসহ একাধিক মামলার আসামী সন্ত্রাসী লাভলু পাটোয়ারী ও তার ছোট ভাই ভুলু পাটোয়ারীকে দুই বোনকে বিয়ে করে সংসার এবং এ ঘটনায় এলাকায় সৃষ্ট ঝগড়া বিবাদ নিয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করে। এসময়ে লাভলু ও ভুলু পাটোয়ারীর লোকজন এলাকাবাসীর উপর হামলা করে। এসময়ে ফারুক মোল্লাসহ অন্যান্যরা লাভলু পাটোয়ারীর পক্ষ নিলে দু‘গ্রুপের মধ্যে উত্তোজনা বৃদ্ধি পেয়ে দু‘পক্ষের মধ্যে ধাক্কা-ধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়। হাতাহাতির এক পর্যায়ে ফারুক মোল্লাসহ দু‘পক্ষের অনেকেই আঘাত প্রাপ্ত হয়। তবে ফারুক মোল্লা যাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে তারা কেউ এর সাথে জড়িত না। এদের নামে কোন কারণ ছাড়াই মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীরা জানান, এ ঘটনায় এলাকার সবাই মিলে ২০নং ওয়ার্ড শ্রমিক লীগ নেতা সন্ত্রাসী লাভলু পাটোয়ারীকে বীর মুক্তিযোদ্ধা উইং কমান্ডার (অব:) সৈয়দ নুরুল হুদার দখল করা বাড়ী থেকে বের করে দিয়েছে। সেই সাথে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে দেবেন বাবু রোড এলাকায় কোন অবৈধ বাড়ী দখলকারী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ কেউ থাকবে না। একে একে এদের সবাইকে এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হবে। আর যারা এদের সহযোগীতা করবে তাদের ও কোন ছাড় দেওয়া হবে না।
এলাকাবাসীরা ক্ষোভের সাথে জানান, অবৈধ বাড়ী দখল করাকে কেন্দ্র করে দেবেন বাবু রোড এলাকায় প্রায়ই সংঘর্ষ হয়ে থাকে। আমরা এলাকার সাধারণ মানুষ এসব দখলদার সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি। এলাকাবাসীর মধ্যেই যেই এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে যায় তাকেই জীবন নাশের হুমকি এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়।
আর এসব চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীদের মদদ দেয় এলাকার কিছু রাজনৈতিক নেতারা। এরা অনেক দিন ধরেই রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। এ বিষয়ে প্রশাসন ও পুলিশের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেও কোন সুরাহা পাচ্ছে না শান্তি প্রিয় এলাকাবাসী।
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এলাকার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বিষয়ে একটি আবেদন খুলনার পুলিশ কমিশনার বরাবর দেওয়া হয়। কিন্তু তার পরেও এসব দখলদার সন্ত্রাসীরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। যারা এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে, নিরীহ মানুষের জমি দখল করে রেখেছে, এলাকার সাধারণ মানুষদের জিম্মী করে রেখেছে তারাই এ মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। যারা এ ধরণের মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি আমরা। যাতে করে ভবিষ্যতে নিরীহ কাউকে এভাবে হয়রানি না করতে পারে।
২০নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা বলেন, ফেরীঘাট দেবেন বাবু রোড এলাকায় শ্রমিক লীগ নেতা লাভলু পাটোয়ারী, সাবেক শ্রমিক লীগ নেতা হালিম মোল্লা, নুর ইসলামের ছেলে যুবলীগ নেতা নামধারী বাপ্পীসহ অনেকেই রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা এবং তার ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হুদার বাড়ী ও দোকান দখল করে রেখেছে। সেই সাথে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আর এদের প্রশ্রয় দিচ্ছে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল এক নেতা। তবে এলাকাবাসীর সাথে আমরাও একমত। দেবেন বাবু রোডে কোন দখলদারদের থাকতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে খুলনা-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনাও রয়েছে যে, কোন ভূমিদস্যু ও মাদক ব্যবসায়ীরা তার এলাকায় থাকতে পারবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সোনাডাঙ্গা থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ফেরীঘাট দেবেন বাবু রোড এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা উইং কমান্ডার সৈয়দ নুরুল হুদা সাহেবের বাড়ীতে যারা দখল করে রেখেছে তারা প্রায়ই নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ নিয়ে কয়েকটি মামলাও হয়েছে। ওখানে দখলকারীদের মধ্যে অধিকাংশই হত্যা ডাকাতিসহ বিভিন্ন মামলার আসামী যারা জামিনে রয়েছে।
মামলার বাদী ফারুক মোল্লা মুঠোফোনে জানান, এ বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না। আমি ব্যস্ত আছি। আপনি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই হরষিতের সাথে কথা বলেন বলে মুঠোফোনের লাইন কেটে দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই হরষিতের মুঠোফোনে জানান, ফারুক মোল্লা আঘাত পেয়েছে ঘটনা সত্য। আঘাতের মেডিকেল সার্টিফিকেট আমরা চেয়েছি। তবে ঘটনার তদন্ত চলছে তদন্ত শেষে বলা যাবে আসলে কে দোষী।

