ভারতে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাজধানী নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টায় নরেন্দ্র মোদিসহ তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে রাষ্ট্রীয় রীতিতে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান। ওই সময় তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে বর্ণাঢ্য মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ভবনের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তার সম্মানে গান স্যালুট দেয়া হয়। প্রথমে বেজেছে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত, এরপর ভারতের।
প্রধানমন্ত্রী গার্ড অব অনারও পরিদর্শন করেন। পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী রাজঘাটে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি গান্ধীর সমাধিসৌধে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সোমবার দিল্লি গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরের দ্বিতীয় দিন ৬ সেপ্টেম্বর হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও একান্ত বৈঠকের কথা রয়েছে। দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ফেরার আগে রাজস্থানের খাজা গরীবে নেওয়াজ দরগাহ শরিফ, আজমির (আজমির শরিফ দরগাহ) এ পরিদর্শন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্বালানি, অভিন্ন নদনদীর পানিবণ্টন ও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা আলোচ্যসূচির শীর্ষে রয়েছে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া সফরের এজেন্ডার শীর্ষে উভয় দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও উন্নত করা, আঞ্চলিক সংযোগের উদ্যোগ সম্প্রসারণ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করার বিষয়টিও রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই।
২০২১ সালে উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০ বছরপূর্তি করে। সেই মাইলফলকে পৌঁছানোর পর ভারতে এটিই প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।
গত বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০০তম জন্মবার্ষিকীও পালন করা হয়। এ উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০২১ সালে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। দিল্লি, ঢাকাসহ বিশ্বের ২০টি রাজধানীতে মৈত্রী দিবস উদযাপন করা হয়েছিল। ২০১৫ সাল থেকে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর ১২ বার বৈঠক হয়েছে।

