যশোরে বিএনপির যে কোনো কর্মসূচি প্রতিহত করার ঘোষণা যুবলীগের

আরো পড়ুন

যশোরে বিএনপি নেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের ফেসবুক লাইভে গৃহযুদ্ধের ঘোষণা দেয়ার পর ৭ কেজি বিস্ফোরক নিয়ে এসেছেন বলে দাবি করেছে যশোর জেলা আওয়ামী যুবলীগ।

মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি করা হয়। একই সাথে তাদের যে কোনো কর্মসূচি প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন বিপুল।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ মেহেদী হাসান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শেখ রফিকুল ইসলাম রফিক, প্রচার সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর শেখ জাহিদ হোসেন মিলন, দফতর সম্পাদক হাফিজুর রহমান, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মারুফ হোসেন বিপুল, ত্রাণ ও পুনঃবাসন বিষয়ক সম্পাদক কাজী তৌফিকুল ইসলাম শাপলা, সদর উপজেলা যুবলীগের সদস্য ও পৌর কাউন্সিলর সাহিদুর রহমান রিপন, পৌর কাউন্সিলর রাজিবুল আলম, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজু আহম্মেদ প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত রবিবার দুপুরে ফেসবুক লাইভে বিএনবির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে গৃহযুদ্ধের ডাক দেন। এর আগে শনিবার গভীর রাতে অপর এক ফেসবুক লাইভে তিনি যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী উল্লেখ করে তাদের হত্যার হুমকি দেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তারা ২০১৩ সালের ন্যায় আগুন সন্ত্রাস করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। অমিতের গৃহযুদ্ধের ডাকের পর যুবদল নেতা রানা ও কবির নামে দুইজনকে বিস্ফোরক আনার দায়িত্ব দেয়া হয়। ইতিমধ্যে তারা যশোরে সাত কেজি বিস্ফোরক নিয়ে এসেছে। যা ২০১৩ সালের ন্যায় আগুন সন্ত্রাসের মতো দেশবিরোধী কাজে ব্যবহার করা হবে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, আওয়ামী লীগ এমন একটি রাজনৈতিক দল যার কর্মীরা মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের জন্য বার বার জীবন দিয়েছেন। কিন্তু কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করেনি। আমরাও যশোর যুবলীগ ঘোষণা করছি, যশোরে অমিতকে কোনো অপকর্ম করতে দেয়া হবে না। তার সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত আমরা করবো। তার পক্ষে বিএনপি, যুবদল বা ছাত্রদলের কোনো সন্ত্রাসীকে আমরা যশোরের রাজপথে নামতে দেবো না। যশোরবাসীকে শান্তি ও স্বস্তি দিতে, আগুন সন্ত্রাস থেকে রক্ষা করতে যা যা করণীয় আমরা সব করবো। একই সাথে বলতে চাই, ফেসবুক লাইভে যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হত্যার হুমকি ও গৃহযুদ্ধের ডাকের জন্য যশোরবাসীর কাছে ক্ষমা না চাইলে অমিতকে যশোরের রাজপথে নামতে দেয়া হবে না। যেখানে যাবেন, সেখানেই তাকে ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরা কঠোরভাবে প্রতিহত করবেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ-অবস্থানের রাজনীতি বিশ্বাস করেন। তার নির্দেশনা মেনে আমরা রাজনীতি করি। কিন্তু আগস্ট মাসের শুরু থেকে বিএনপি নেতা অমিতের নেতৃত্বে যশোরে আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তারা লেবুতলায় মিছিল করে আমাদের আগস্টের প্যানা-ব্যানার ছিড়ে ফেলেছে। কচুয়ায় সমাবেশ শেষে রুপদিয়া বাজারে এসে তান্ডব চালিয়েছে। সেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত প্যানা ও তোরণ ভাঙচুর করে। অমিতের বাড়ি ঘোপ এলাকা থেকেও আমাদের সব প্যানা ছিড়ে ফেলা হয়েছে। লেবুতলা ও রুপদিয়ায় অমিতের শুধু উপস্থিতিতে নয়, তার নেতৃত্বেই এসব অরাজকতা করা হয়েছে। তিনি নিজেই নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদের গাড়ি ভাঙচুর করেছেন, তাকে হত্যাচেষ্টা চালিয়েছেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে এসব অপতৎপরতা চালানোর পর তারা শহরে তান্ডব চালানোর পরিকল্পনা করে। আমরা তাদের সব অরাজকতা প্রতিহত করেছি। গত রবিবার ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরা রাজপথে নামেন। সেদিন দুপুরে শহরের দড়াটানায় তাদের অরাজকতা প্রতিহত করে যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় সাধারণ মানুষও আমাদের সাথে যোগ দেন। পরে তারা শহরের ল্যাবস্কানের সামনে জড়ো হয়ে যানবাহন ভাঙচুরের প্রস্তুতি নেয়। সেখানে যুবলীগের নেতাকর্মীরা গেলে তারা সেখান থেকে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে যায়। পরে আমাদের নেতাকর্মীরা তাদের দলীয় কার্যালয়ে নাশকতার জন্য বৈঠক হচ্ছে জানতে পেরে সেখানে যান। কিন্তু সেখানে গেলে বিএনপির সন্ত্রাসীরা তাদের উপর হামলা করে। এরপর সেখানে দুই পক্ষের সংর্ঘষ হয়। এক পর্যায়ে সাধারণ মানুষ আমাদের সাথে অংশ নেন। পরে উত্তেজিত নেতাকর্মী ও সাধারণ জনতা অমিতের বাড়িতে গিয়ে সেখানে চলা নাশকতার বৈঠক ভন্ডুল করে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে ঘোষণা দেয়া হয়, যশোরকে অশান্ত করার দায় অমিতকে নিতে হবে। তাকে যশোরবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। অথবা তারা আগুন সন্ত্রাসের যে পরিকল্পনা করেছে তার জন্য তাকে চড়া মূল্য দিতে হবে। আমরা যশোরবাসীকে সাথে নিয়ে আমরা তাদের প্রতিহত করবো।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি জাবের হোসেন জাহিদ, সাবেক সহ-সভাপতি বিএম জাকির হোসেন, সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আহসানুল করিম রহমান, মাহাবুবুর রহমান বিদ্যুৎ, শরীফ এ মাস্উদ হিমেল, সাবেক সহ সম্পাদক মেহেদী হাসান শান্তি, সাবেক পরিবেশ সম্পাদক সুমন অধিকারী, সাবেক উপ-দফতর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বনি, সাবেক উপ-শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক রেযোয়ান হোসেন মিথুন, জেলা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গাজী রাইয়ান মৌমন, শহর শাখা সভাপতি আব্দুল কাদের, সাধারণ সম্পাদক তছিকুর রহমান রাসেল প্রমুখ।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ