চৌগাছায় সাহিদা (২৫) নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে শহরের ব্রাক অফিসের পিছনে ভাড়ার বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সাহিদা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ কয়ারপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলামের মেয়ে। কয়েক মাস আগে বাবা মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিজের পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করে ভাড়ার বাসায় বসবাস করছিল তারা। তার স্বামীর নাম সেলিম হোসেন। সাহিদা ও সেলিম চৌগাছা ডিভাইন গ্রুপে দৈনিক হাজিরায় আলু বাছাইয়ের কাজ করত।
প্রতিবেশিরা জানিয়েছেন, সেলিম মাঝে মধ্যে রাতে কোল্ডস্টোরে থাকত। ঘটনার দিন খুব সকালে সেলিম বাসায় গিয়ে আবার বেরিয়ে যায়। এর পরে বাসায় কোনো সাড়া শব্দ ছিল না। একজন প্রতিবেশি পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে দেখেন ঘরের মধ্যে সাহিদার নিথর দেহ পড়ে রয়েছে। তার ডাক চিৎকারে লোকজন এসে থানায় খবর দিলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহতের বাবা রবিউল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা যায়, অন্য একটি ছেলের সাথে বিয়ে হয়েছিল তার। সেই ঘরের একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে। বিবাহ বিচ্ছেদের পরে সাহিদা ডিভাইন গ্রুপের কোল্ডস্টোরে আলু বাছাইয়ের কাজ করত। সেখানে কাজ করতে গিয়ে সেলিম নামের একটি ছেলের সাথে ভালবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। পরে মা বাবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেই ছেলেকে বিয়ে করে। ছেলেটির বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায়। সেলিমের সম্পর্কে এর চেয়ে বেশি কিছু জানেনা নিহতের পরিবার।
বাসার মালিক মামুন হোসেন বলেন, সাহিদার স্বজনদের অনুরোধে সাহিদাকে বাসা ভাড়া দিই। বাসা ভাড়া নেয়ার পরে তারা বিয়ে করেছে। যে কারণে সেলিমের পরিচয় আমার জানা নেই।
ঘটনার তদন্তকারি কর্মকর্তা চৌগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু শেখ বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির কাজ চলছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে ময়না তদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। নিহতের স্বামী সেলিমকে আটকের চেষ্টা চলছে।

