যশোরের ঝিকরগাছায় প্রেমিকের ব্লাকমেইলের জেরে মারিয়া খাতুন নামের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৩ আগষ্ট) উপজেলার ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামে।
এঘটনায় বখাটে প্রেমিক মেহেদী হাসানের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে। বুধবার (২৪ আগষ্ট) সকাল এগারটায় কাশিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বাজার প্রদক্ষিন করে। এসময় কাশিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।
নিহত মারিয়া খাতুন (১৪) কাশিপুর গ্রামের মাঠপাড়ার দর্জি আব্দুল হান্নানের মেয়ে। সে কাশিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মঙ্গলবার সকাল এগারটার দিকে ঝুলন্ত অবস্থায় ঘরের ফ্যানের সাথে ঝুলে থাকতে দেখে পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
অভিযুক্ত বখাটে প্রেমিক মেহেদী হাসান (১৫) কাশিপুর গ্রামের রুহুল কুদ্দুসের ছেলে এবং কাশিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে এখনো পলাতক আছেন।
মানবন্ধনে নিহত মারিয়ার পিতা আব্দুল হান্নান অভিযোগ করেন, মেহেদী হাসান এলাকায় নেশাখোর হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে চুরি ছিনতাই সহ অনেক কুকর্মের অভিযোগ আছে। মেহেদী তার মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন সময়ে অর্থ হাতিয়ে নিত। সর্বশেষ ব্লাকমেইল করে মেয়ের বড় বোনের স্বর্নের চেইন হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে আরো টাকা দেয়ার জন্য চাপ দেয়। মেয়ের কোচিং সেন্টারে এটা নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষোভে-লজ্বায় সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
তবে মেয়েটির বাবা আব্দুল হান্নান দাবি করছে, মেহেদীর কাছে কোন অডিও, ভিডিও কিংবা রেকর্ডিং থাকতে পারে যেটা দিয়ে সে তার মেয়েকে ব্লাকমেইল করতো। তিনি অভিযোগ করেন টাকা না দেয়ার কারণে মেয়ের কাছে তাকে হত্যার হুমকিও দিত বখাটে মেহেদি।
নিহত মেয়ের সহপাঠীরা জানান, মেহেদীর সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিভিন্ন সময়ে সে চাপ প্রয়োগ করে টাকা নিতো। সর্বশেষ সে টাকা দিতে না পেরে বড় বোনের সোনার চেইন দিয়ে দেয়। ধারণা করা হচ্ছে আপত্তিকর কোন ছবি কিংবা ভিডিও দেখিয়ে ব্লাকমেইল করে সে টাকা নিত।
ঝিকরগাছা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন ভক্ত জানান, মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে প্রেমিক মেহেদী হাসানকে আটকের অভিযান চলছে। এই ঘটনায় পরিবার এখনো লিখিত অভিযোগ করেনি।
জাগো/আরএইচএম

