ডিসেম্বরের মধ্যেই আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা। সে লক্ষ্যে ডিসেম্বরের আগেই দলের সব ইউনিট এবং সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
পাশাপাশি আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে চলমান পরিস্থিতিতে জনগণের সামনে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে দেশব্যাপী সাংগঠনিক তৎপরতা আরো জোরদারের গাইডলাইন দিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা।
রবিবার (১৪ আগস্ট) গণভবনে আওয়ামী লীগের আট বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে তিনি এসব বিষয়ে নির্দেশনা দেন বলে বৈঠক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এর আগে সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভা শুরু হয়। শুরুতে সূচনা বক্তব্য দেন তিনি। আওয়ামী লীগের গত জাতীয় সম্মেলনের পর এই প্রথম দলের বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করলেন শেখ হাসিনা।
এ সময় আট বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। নেতারা হলেন আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সাখাওয়াত হোসেন শফিক। বৈঠকে দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, আগামী জাতীয় সম্মেলন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে অবহিত করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। সে লক্ষ্যে বিভাগীয় সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে রিপোর্ট শোনেন ও বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জোরদার করার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরার নির্দেশনা দেন টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার প্রধানের দায়িত্বে থাকা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। সভায় জানানো হয়, নভেম্বরে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর-দক্ষিণসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত আট সাংগঠনিক সম্পাদককে নিয়ে এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বসেছিলেন। তিনি আমাদের সাংগঠনিক কাজের গুরুত্ব বাড়ানোর নির্দেশ দেন। এছাড়া সব জেলাওয়ারি রিপোর্টও নিয়েছেন তিনি। জেলা-উপজেলায় কতগুলো সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, কতগুলো বাকি আছে সেগুলো জানানো হয়েছে তাকে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন জেলারর অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়ে কথা বলেছেন।
মির্জা আজম জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় সম্মেলন হবে এবং জাতীয় সম্মেলনের আগে মেয়াদোত্তীর্ণ সব কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে গঠন করতে হবে বলে দলীয় প্রধান নির্দেশ দিয়েছেন। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করারও নির্দেশনা দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। কোনো ইউনিটে অভ্যন্তরীণ সংকট বা কোন্দল থাকলে সেগুলো নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন তিনি। এছাড়া সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কোথাও কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে পরামর্শ নেয়ারও নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ প্রধান।
নির্বাচনে দলের বিদ্রোহীদের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে কি না? জানতে চাইলে মির্জা আজম বলেন, বিদ্রোহীদের ব্যাপারে তো এর আগেও সিদ্ধান্ত হয়েছে। যেমন- উপজেলা পরিষদে যারা বিদ্রোহ করেছিল তাদের ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। বিদ্রোহীদের যারা সমর্থন করেছিল তাদেরও ক্ষমা (সাধারণ ক্ষমা) করে দেয়া হয়েছে। শুধুমাত্র যারা প্রার্থী ছিলেন তারা কোনো কমিটির পদে থাকতে পারবে না এই পানিশমেন্ট বহাল আছে।
তিনি আরো বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে বিদ্রোহীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত ছিল- সরাসরি বহিষ্কার করা। যারা প্রার্থী ছিলের এবং যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ ছিল। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অনেক জায়গায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় হয়তো নেয়া হয়নি। এই বিষয়গুলোও আজকের আলোচনায় উঠে আসে। এটা পুনর্বিবেচনার কোনো সুযোগ আছে কি না? জানতে চাইলে নেত্রী বলেছেন, কোনো এক সভায় (আগামী) এটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তারপর সিদ্ধান্ত।

