মালয়েশিয়া গমনিচ্ছু শ্রমিকদের ঢেউ এখনও যশোর পাসপোর্ট অফিসে। গত রবিবার ও সোমবার আবেদন জমা পড়েছে চার হাজারেরও বেশি। যাদের বড় অংশ মালয়েশিয়া যেতেই পাসপোর্ট করছেন। অতিরিক্ত মানুষের চাপ সামাল দিয়ে যেয়ে পাসপোর্ট অফিসের কর্মিদের ত্রাহি অবস্থা। তারা বলছেন অতিরিক্ত চাপের কারণে পাসপোর্টের ছবির মান খারাপ হতে পারে। অন্যান্য তথ্যও বদলে যেতে পারে।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ বিভাগ ঘোষণা দেয় পামওয়েল শিল্প এবং বিভিন্ন প¬ানটেশন খাতে জরুরি ভিত্তিতে ৩২ হাজার বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। সে অনুযায়ী অনলাইনে আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়াও চালু হয়। সেই থেকেই মালয়েশিয়া গমনিচ্ছু শ্রমিকদের কর্ম তৎপরতা বাড়তে থাকে। এক বছরের পুরোনো সেই খবরে উজ্জীবিত মালয়েশিয়া গমনিচ্ছুরা এখনো পাসপোর্টের জন্য ভিড় করছেন। ইতোমধ্যে বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে মালয়েশিয়া। শুক্রবার (৫ আগস্ট) দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এক নোটিশের মাধ্যমে ঘোষণা করে- ১৫ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগ আবেদন বন্ধ থাকবে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়- কর্মসংস্থান (সংশোধন) আইন-২০২২ অনুসরণ করে বিদেশি কর্মীদের পদ্ধতির পর্যালোচনা সক্ষম করে ১ সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় নিয়োগ আবেদন চালু করা হবে এবং বিদেশি কর্মীদের আবেদনের নতুন পদ্ধতি শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।
সাময়িক বন্ধ মানে একেবার বন্ধ নয় এ বিশ্বাসে পাসপোর্ট অফিস হুমড়ি খেয়ে পড়ছে বিদেশি গমনিচ্ছুরা। ছবি তোলা, ফিঙ্গার প্রিন্ট ও চোখের আইরিস গ্রহণের কাজে তাদের এখন ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে যশোর পাসপোর্ট অফিসের কর্মিদের। গত দুই দিনে প্রায় চার হাজার পাসপোর্টের কাজ করতে আসে। কিন্তু বুথ থাকলেও জনবলের সংকটে এতো লোকের এক সাথে পাসপোর্টের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ৫টি বুথে প্রতিদিন ২৫০ জনের ছবি তোলা, ফিঙ্গার প্রিন্ট ও চোখের আইরিস গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। কর্মিরা প্রতিদিন ৫০০জনের পাসপোর্টের কাজ করছে। এরপরেও জনস্রোত সামল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না তাদের। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, অতিরিক্ত চাপের কারনে পাসপোর্টে ছবি ভালো না হওয়াসহ তথ্যের ঘার্টতি থাকতে পারে।
গত সোমবার দুপুরে যশোর পাসপোর্ট অফিসে যেয়ে চোখে পড়ে লম্বা লাইন। অফিসের ভিতর থেকে এঁকেবেঁকে লাইন বারান্দা ছাড়িয়ে প্রধান ফটক দিকে সড়কে চলে গেছে। এখানে কথা হয় চৌগাছার যাত্রাপুর গ্রাম থেকে পাসপোর্ট করতে আসা আবু সাঈদের সঙ্গে। তিনি বলেন, সকাল ৯টায় লাইনে দাড়িয়ে বেলা ৩টায় মাঝামাঝি পর্যন্ত এসেছে। কখন যেয়ে যে পাসপোর্টের ছবি তোলা শেষ করবো; নাকি আজ ফিরে যেতে হবে বুঝতে পারছি না।’
কেশবপুর থেকে আসা সামছুর রহামান নামে এক পাসপোর্ট আবেদনকারি বলেন, নিজে নিজে পাসপোর্ট করতে যেয়ে দুই দিন ধরে ঘুরেছি অফিসে। বারে বার বলা হয়েছে কাগজপত্রে ভুল। পরে দালাল ধরে পাসপোর্ট কাজ শেষ করলাম।
মহিলাদের লাইনে মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ গ্রামের রাবেয়া খাতুন নামে এক আবেদনকারি বলেন, দালাল ধরেছি মালশিয়ায় যাবো বলে। পাসপোর্ট রেডি করার জন্য বলা হয়েছে। কষ্ট উপেক্ষা করেও লাইনে দাড়িয়ে আছি।
এ ব্যাপারে যশোর পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, ‘রবিবার ও সোমবার এই দুই দিনে ব্যাপক সংখক মানুষ পাসপোর্ট করতে এসেছে। এদের অধিকাংশ বলা যায়কে মালশিয়াগামী। বুথ থাকার সত্বেও লোকবল সংকটের কারণে এতো লোকের কাজ এক সাথে করা সম্ভাব হচ্ছে না। দিনে ৫ বুথে ২৫০ জনের কাজ করা হয়। কিন্তু এই দুই দিন এক হাজার জনের কাজ করা হয়েছে। এর ফলে পাসপোর্টে ছবি ভালো না হওয়াসহ তথ্যের ঘার্টতি থাকার আশঙ্কা আছে।’ তিনি আরও বলেন, আশংকা করা যাচ্ছে সরকারি ছুটি শেষ হলে ভিড় আরও বাড়তে পারে।’

