চকলেটের কথা শুনলে জিভে জল আসে না এমন মানুষ কমই আছে। উপহার হিসেবেও তাই চকলেট আর ক্যান্ডির আবেদন সবসময় বেশি। কিন্তু এটিই যদি আপনার চাকরি হয়? অর্থাৎ, সারাদিন চকলেট খেলেন আর মাস শেষে তার বিনিময়ে পেলেন। কেমন হবে ব্যাপারটি?
উদ্ভট শোনালেও এমনই চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে কানাডার একটি প্রতিষ্ঠান। ক্যান্ডি ফানহাউস নামের প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি চিফ ক্যান্ডি অফিসার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। তাতে লেখা রয়েছে, ‘আপনি কি চকলেট-ক্যান্ডি খেতে ভালোবাসেন? মিষ্টান্নজাতীয় খাবার খেতে কি আপনার খুবই ভালো লাগে? এমন নতুন কিছুর জন্য অপেক্ষায় থাকেন? তবে এ পদে আপনিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি।’
কানাডার অন্টারিওভিত্তিক কোম্পানি ক্যান্ডি ফানহাউস। চকলেট ও ক্যান্ডি পছন্দ করেন এমন ব্যক্তি খুঁজছে তারা। চকলেট খাওয়ার চাকরিটি বার্ষিক বেতন এক লাখ কানাডিয়ান ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা)।
ঘরে বসে কিংবা কানাডা ও নিউ জার্সি অফিস থেকে কাজ করা যাবে। চিফ ক্যান্ডি অফিসারের মূল কাজ হবে স্বাদ পরীক্ষা করা। কোম্পানিতে তৈরি হওয়া চকলেট ও ক্যান্ডির স্বাদ পরীক্ষা করে দেখবেন তিনি। স্বাদের ব্যাপারে তার ছাড়পত্র মিললে তবেই বাজারে ছাড়া হবে চকলেট। মাসে গড়ে সাড়ে তিন হাজার পণ্যের স্বাদ পরীক্ষা করতে হবে তাকে।
প্রতিদিন প্রায় ১১৩টি ক্যান্ডি ও চকলেট খেতে হবে চিফ ক্যান্ডি অফিসারকে। আরও কিছু দায়িত্ব আছে তার। ক্যান্ডি নিয়ে পরিকল্পনা এবং কৌশল নির্ধারণ বিভাগের নেতৃত্বে থাকবেন তিনি। ক্যান্ডি বোর্ড মিটিং করতে হবে তাকে। কোন পণ্য বাজারে আনা যায়, সেটিও নির্ধারণ করবেন তিনি।
পাঁচ বছরের বেশি যেকোনো মানুষ পদটির জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে বাংলাদেশিদের জন্য এই সুযোগ থাকছে না। কেননা, শর্ত অনুযায়ী আবেদনকারীকে উত্তর আমেরিকার কোনো দেশের বাসিন্দা হতে হবে।
চাকরিটির জন্য অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। চিফ ক্যান্ডি অফিসার পদে যিনি নিয়োগ পাবেন, দীর্ঘ প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে তাকে সব বিষয়ে ধারণা দেওয়া হবে।
এই পর্যন্ত লিংকডইনের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মানুষ পদটির জন্য আবেদন করেছেন। আবেদনের সময়সীমা ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে দীর্ঘ। কারণ, অনেক কিছুই যাচাই-বাছাই করার পর প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

