জেষ্ঠ প্রতিবেদক: গত মাসে চালু হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পদ্মা সেতু। দেশের দীর্ঘতম সেতুটি চালুর পর এর প্রভাব পড়েছে নৌপথে। এছাড়া আকাশপথেও কিছুটা হলেও যাত্রী কমেছে। বিশেষ করে যশোর ও বরিশাল রুটে আকাশপথে যাত্রী অর্ধেকে নেমে এসেছে। সরকারি ও বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো রুট দুটির একটিতে আগের চেয়ে হাজার টাকা ভাড়া কমিয়েও পুরো ফ্লাইট পূর্ণ করতে পারছে না।
তবে যাত্রীর এমন সংকটকে বিপর্যয় বলছেন না এয়ারলাইন্সগুলো। তারা মনে করছেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় হয়তো কিছু মানুষ আপাতত আকাশপথ ব্যবহার করছে না। অনেকে শখ করে সেতুটি একনজর দেখার জন্য সড়কপথ বেছে নিচ্ছেন। কিন্তু সড়কের বিকল্প আকাশ পথ এটিকে কোনোভাবে অস্বীকার করার উপায় নাই। আকাশপথ ব্যবহার করা যারা এখন সড়কপথে যাচ্ছেন খুব শিগগির তারা আবারও আকাশ পথেই ফিরবেন। আগের মতো ব্যবহার শুরু করবেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে নদী ও আকাশপথে যাত্রী কমেছে। ইতোমধ্যে নৌযানগুলো ভাড়া কমিয়েও যাত্রী পাচ্ছে না। এরই মধ্যে বরিশাল রুটে চলাচলকারী গ্রীনলাইন নামে একটি অভিজাত লঞ্চ যাত্রীর অভাবে একেবারেই বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, আকাশপথে বরিশাল রুটে আগের ভাড়া সাড়ে ৪ হাজার হলেও তা কমিয়ে কেউ সাড়ে ৩ আবার কেউ ৩ হাজার করে ফ্লাইটের সিট পূর্ণ করতে পারছে না। বরিশালের পাশাপাশি যাত্রী কমেছে যশোর রুটেও। বেসরকারি ও সরকারি এয়ারলাইনসের ফ্লাইটগুলোতে যাত্রী অর্ধেকে নেমে এসেছে। তবে তারপরও তারা খুশি।
বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর ভাষ্য, কোরবানির ঈদের পর মানুষজন কম আকাশপথে ফেরে। কোরবানি ও ঈদের কেনাকাটা করতেই অনেকের টাকা অনেক খরচ হয়। এই খরচ বাঁচানোর জন্য অনেকে কষ্ট স্বীকার করে সড়কপথে যাতায়াত করে থাকে। আর এই সময়টাতে প্রতি বছর কিছুটা যাত্রীর চাপ কম থাকে।
এদিকে যাত্রী কম থাকায় বরিশাল রুটে আর ফ্লাইট পরিচালনা করবে না নভোএয়ার। যা আগামীকাল ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে তারা। যদিও তারা এ বন্ধকে সাময়িক বলে বলছেন। কিন্তু এই রুটে নভোএয়ার আবার ফ্লাইট চালু করতে চাইলে উঠে দাঁড়াতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান অনেকে।
নভোএয়ার এয়ারলাইন্সের সেলস এন্ড মার্কেটিং বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা নীলাদ্রি মহারত্ন বলেন, বরিশাল রুটে যাত্রী কম থাকায় আমরা আপাতত সাময়িক সময়ের জন্য ফ্লাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী পহেলা আগস্ট থেকে ফ্লাইট বন্ধ থাকবে। পরবর্তীতে আবারও চালু করা হতে পারে।
তবে এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যাত্রী কম থাকায় ফ্লাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নভোএয়ারকে ভোগাবে। এতে যাত্রীদের আস্থা কমে যায়। এ গ্রুপে আবারও ফ্লাইট চালু করলে এয়ারলাইন্সটিকে বিজ্ঞাপন প্রচারের ঝামেলা পোহাতে হবে।
অন্যদিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ও বিমান বাংলাদেশের যশোর ও বরিশাল রুটে তুলনামূলক যাত্রী কমেছে বলে তারাও স্বীকার করছেন। বিমান তাদের ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে। শুধু ভালো অবস্থানে আছে ইউএস-বাংলা। তারা আগের মতোই যাত্রী পাচ্ছে বলে দাবি করেছে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মা সেতু হওয়ার পর থেকে জল ও আকাশপথে যাত্রী কমতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ঢাকা টু বরিশাল রুটে চলাচলকারী গ্রীন লাইন পরিবহনের একটি লঞ্চ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিমান ইতোমধ্যে বরিশাল রুটে মাত্র দুই দিন ফ্লাইট পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকার বলেন, আমরা বরিশাল রুটে আগের ভাড়া থেকে ৪০০ টাকা কমিয়ে ৩০০০ টাকা ভাড়া করেছি। আমাদের ফ্লাইট এখনো চলমান আছে। তবে আগের থেকে কিছুটা যাত্রী কমেছে। তিনিও দাবি করেছেন তারা এ দুই রুটে ভালো যাত্রী পাচ্ছেন।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতু হওয়ার পর কিছুটা প্রভাব তো পড়েছে। তবে আমরা দিব্যি এয়ারলাইন্স চালাচ্ছি। বরিশাল রুটে ভাড়া একটু কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন এ রুটের ভাড়া সাড়ে তিন হাজার টাকা। যশোর ও বরিশাল রুটে আমাদের কোনো যাত্রী কমেনি।
নিয়মিত আকাশপথের যশোর ও বরিশাল রুটে যাতায়াতকারীরা বলছেন, আকাশপথের বিকল্প কখনোই সড়কপথ হবে না। এ যাত্রী সংকট সাময়িক। আকাশপথে যাত্রীর ক্লান্তি কম। জরুরি কাজে কোথায় গেলেও ক্লান্তি ভর করে না। গন্তব্য থেকে আবারও স্বাচ্ছন্দ্যে ফেরত আসা যায়।
জাগো/এমআই

