ডেস্ক রিপোর্ট: যশোরের বাঘারপাড়ায় এক কলেজছাত্রীকে কুপ্রস্তাবের প্রতিবাদ করায় ওই ছাত্রীর পরিবারের উপর হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় ওই ছাত্রীর পুরো পরিবারকে মারপিট এবং ছাত্রীর ভাবির মাথায় কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে সন্ত্রাসীরা।
ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী লিজা (১৯) উপজেলার খানপুর গ্রামের আলমগীর খানে’র মেয়ে এবং স্থানীয় একটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় কলেজছাত্রীর ভাবি নিশি (২০) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
ঘটনাটি গত ১৬ জুলাই রাতে খানপুর গ্রামের ওই কলেজছাত্রীর বসতবাড়িতেই ঘটে। এ হামলার ঘটনায় গত ২২ জুলাই একই গ্রামের কলিম খানের ছেলে জনি হোসেন (৪০) ও তার ছেলে মিরাজ হোসেন (১৯), কলিম খানের স্ত্রী মজে খাতুন (৫৫), জনি হোসেনের স্ত্রী হাফেজা খাতুনকে (৩৫) আসামী করে ভুক্তভোগী পরিবার যশোর আদালতে মামলা করলেও এখন পর্যন্ত কোন আসামীকেই গ্রেফতার করতে পারেনি বাঘারপাড়া থানা পুলিশ। বরং আদালত প্রধান আসামী মিরাজ হোসেন বাদে বাকি তিনজনকে জামিন দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রী লিজা খান জানান, বেশ কিছুদিন ধরে আসামি মিরাজ হোসেন কলেজ ছাত্রী লিজাকে বিভিন্ন সময়ে বিরক্ত করে আসছিল। বিভিন্ন সময় আজেবাজে কথাবার্তাসহ কুপ্রস্তাব দিতে থাকতো। এসব বিষয়ে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে তারা গত ১৬ জুলাই বিকালে আসামি মিরাজ হোসেনকে গ্রামের একটি ঘরে আটকে রাখে। একই দিন রাতে আসামি মিরাজ হোসেন ঘর থেকে ছাড়া পেয়ে রাত নয়টার দিকে তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রীর বসতবাড়িতে সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ড চালায়। হামলার সময় হত্যার উদ্দেশ্যে কলেজ ছাত্রী লিজাকে তাক করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দিতে গেলে কোপটি লিজার ভাবি নিশির মাথায় লাগে। এ সময় কলেজছাত্রী লিজা এবং তার বাবা-মা এবং ছোট ভাইকে বেধড়ক মারধর করে। প্রতিবেশীরা তৎক্ষনাৎ আহতদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
কলেজ ছাত্রীর বাবা আলমগীর খান বলেন, আমরা আদালতে মামলা করার পর এখন পর্যন্ত প্রধান আসামী মিরাজকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ বরং মামলার এজাহারে উল্লেখ করা বাকি তিন আসামীকে জামিন দিয়েছে আদালত।
তিনি আরও বলেন, আমরা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার মেয়ের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাকে আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। আসামি মিরাজ এবং তার পরিবার আমাদেরকে নানাভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে।
এ বিষয়ে বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, “কোর্টে মামলা হয়েছে। মামলার কপি আমাদের কাছে আছে। কোর্ট অন্য অরগানাইজেশানে তদন্তভার দিয়েছে হয়তো। এ বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারবো না।
জাগো/এমআই

