নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করায় রোকসানা আক্তার নামের (৩৮) এক নারীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ২ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১।
শুক্রবার গভীর রাতে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার ভবেরচর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের হিনানপুর দেওয়ান বাড়ি গ্রামের মৃত রাজু মিয়ার ছেলে মনির হোসেন (৪৫) ও তার ভাই সন্দেহভাজন আসামি আমির হোসেন (৪০)।
প্রাথমিক অনুসন্ধান ও গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের পর র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী রোকসানা বেগমের স্বামীর সঙ্গে তার বিগত ৭-৮ বছর আগে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে ভুক্তভোগী তার একমাত্র ছেলেকে নিয়ে ছোট ভাই এনামুল হকের (২৫) বাড়িতে থাকতেন। তিনি জীবিকার জন্য উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের বাইশটেকী গ্রামের দেওয়ান বাড়িতে জামদানী শাড়ি তৈরির কাজ করতেন। সেই সুবাদে ওই বাড়ির মৃত রাজু মিয়ার ছেলে মনির হোসেনের (৪৫) সঙ্গে রোকসানা বেগমের দীর্ঘদিনের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী বিয়ের ব্যাপারে মনির হোসেনকে চাপ দিলে আসামি মনির তার মেয়েকে বিয়ে দেয়ার পর তাকে বিয়ে করবে বলে আশ্বাস দেন।
র্যাব আরো জানায়, গত ১৫ জুলাই আসামি মনিরের মেয়ের বিয়ে হলে, ভুক্তভোগী রোকসানা গত সোমবার বিয়ের দাবিতে মনিরের বাড়িতে অবস্থান নেয়। এ সময় মনিরের বাড়ির লোকজন তাকে একাধিকবার বাড়ির বাইরে টেনে হিঁচড়ে বের করে দেয়। ভুক্তভোগী তার অবস্থানে অনড় থাকায় মনির হোসেন, তার ভাই গোলজার, খোকন ওরফে খোকা, ছেলে রানা ও মনিরের স্ত্রীসহ অন্যান্য আসামিরা লোহার পাইপ, লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে গুরুতর আহত করে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় ভুক্তভোগীকে মনির হোসেন ও তার সহযোগীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক রোকসানাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর সংবাদ জানার পর মনির ও তার সহযোগীরা মরদেহ রেখেই হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়।
র্যাব-১১ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। হত্যা মামলার অধিকতর তদন্তের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিদের তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। র্যাব-১১ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

