যশোরে দিনে চারবার লোডশেডিং, শহরে বিদুৎ সরবরাহে ঘাটতি প্রায় ৪৪ শতাংশ

আরো পড়ুন

ডেস্ক রিপোর্ট: সারাদেশে বিদুৎ সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে যশোর শহরে দিনে চারবার লোডশেডিংয়ের উদ্দ্যোগ নিয়েছে বিদুৎ বিতরণ বিভাগ যশোর ওজোপাডিকো। দিনে চারবার লোডশেডিং দেওয়ার কথা থাকলেও চারের অধিকবার লোডশেডিং করা হচ্ছে বলে অভিযোগ শহরবাসীর। সন্ধ্যা এবং মধ্যেরাতেও লোডশেডিং দেওয়ায় ক্ষুব্ধ সাধারণ জনগন। অসহনীয় গরমে ভোগান্তিতে পড়েছে শিশুসহ নানা বয়সী মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা।

যশোর শহরে চাহিদার তুলনায় বিদুৎ সরবারহ রয়েছে প্রায় ৫৬ শতাংশ এবং ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৪৪ শতাংশ। বিদুৎ সরবরাহ কম পেলে প্রয়োজন অনুযায়ী লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে বলে দাবী করছেন ওজোপাডিকোর কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) থেকে সিডিউল করে লোডশেডিং করা হচ্ছে।

লোডশেডিংয়ের প্রথম দিনে যশোর শহরে লোডশেডিং হয়েছে চারবারের অধিক। মঙ্গলবার শহরের সেন্ট্রাল রোডে দুপুরে ২টা থেকে সাড়ে ৩টা, এবং সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৮টা, এবং মধ্যে রাত ১২টার পর এক ঘন্টা পরপর দুই বার লোডশেডিং হয়েছে। শহরের মনিহার, নীলগঞ্জ এলাকায় দুপুর ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত এবং রাত ১২ টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে।

অন্যদিকে শহরের কাজীপাড়ায় সারাদিনে তিনবার লোডশেডিং হয়েছে, দুপুরে দুই বার ,সন্ধ্যায় একবার এবং রাত ১২ টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত একটানা দেড় ঘন্টা লোডশেডিং করা হয়েছে।

এছাড়া শহরের রেলগেটে দুপুর ২টা থেকে ৩টা এবং সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত, মুড়লী এলাকায় ১০টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা, চোপদারপাড়ায় রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত লোডশেডিং করা হয়।

এ সকল এলাকাবাসীদের অভিযোগ দিনের বেলায় এবল রাতে একাধিকবার লোডশেডিং হওয়াতে শিশু এবং বয়স্কদের ডায়রিয়া সহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুকি বাড়ছে। এছাড়া এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে।

রেলগেট এলাকায় সাইমা সাদিয়া নামে এক নারী জানান, “মঙ্গলবার সারদিন এবং রাতে দুইবার বিদুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিলো। ফলে গরমে অনেক কষ্ট পেতে হয়েছে এলাকার মানুষদের। এদিকে সন্ধ্যা বেলায় বাসায় ছেলে মেয়েরা পড়াশোনা করতে বসে এ সময়ও লোডশেডিং হলে তাদের পড়াশোনা ব্যাঘাত ঘটে। “

ঢাকা রোড এলাকার রাবিব বিপ্লব অভিযোগ করে জানান, “ঢাকা রোড এলাকায় মঙ্গলবার সারাদিনে চারবারে চার ঘন্টার অধিক সময় বিদুৎ ছিলো না। এতে সাধারণ মানুষের গরমে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এদিকে মাঝরাতেও লোডশেডিং দেওয়াতে এলাকার বৃদ্ধ, বয়স্ক সহ নানা বয়সী মানুষ গরমে কষ্ট পেয়েছে।”

নীলগঞ্জের বাসিন্দা আসিফ সেতু জানান, “গরমের সময় শীতল পরস পেতে মানুষ ফ্যানের নিচে অবস্থান করে। আর সেই ভ্যাপসা গরমে মধ্যে বিদুৎ না থাকায় অনেকেই ঘরে বাহিরে ছোটাছুটি করেছে একটু ঠান্ডা পরস পাওয়ার জন্য। মাঝ রাতেও লোডশেডিং হলে পুরো এলাকার মানুষ ঘুম থেকে জেগে উঠেছে।”

চোপদারপাড়া এলাকার আসাদুজ্জামান বলেন, “মঙ্গলবার সারাদিন বাচ্চাদের নিয়ে অনেক কষ্টে কাটিয়েছি। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। একদিকে বৃষ্টি নেই তীব্র গরম অন্যদিকে দিনে রাতে লোডশেডিং। চার্জার ফ্যান ক্রয়ের পরিকল্পনা করছি না হলো এই গরমে বেঁচে থাকা কঠিন হবে”

কাজীপাড়ার চঞ্চল বিশ্বাস বলেন, “সামনে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা। এ সময়ে যদি সন্ধ্যা রাতে এভাবে লোডশেডিং করা হয় তাহলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ক্ষতি হবে।”

এদিকে যশোর শহরে বুধবার (২০ জুলাই) দুপুরেও শহরের মনিহার, ঢাকা রোড, বারান্দিপাড়া সহ বেশকিছু এলাকায় এক থেকে দেড় ঘন্টা লোডশেডিং করেছে বিদুৎ বিতরণ সংস্থা।

এ বিষয়ে যশোর ওজোপাডিকো বিক্রয় ও বিতরন বিভাগ-১ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রওশন আলী বলেন, “যশোর শহরের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ মেগাওয়াট কিন্তু আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছি ৩২ থেকে ৩৪ মেগাওয়াট।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বিদুৎ সরবরাহ কম হলে প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা লোডশেডিং দিচ্ছি। তবে নির্দিষ্টভাবে লোডশেডিং দেওয়া সম্ভব হয় না। সরবরাহ কম থাকাকালীন লোডশেডিং না দিলে পুরো সিস্টেম সাটডাউন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।”

জাগো/এমআই

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ