বাঘারপাড়ার পৌর মেয়রকে বয়কট করলেন ৭ কাউন্সিলার

আরো পড়ুন

যশোরের বাঘারপাড়া পৌরসভার মেয়র কামরুজ্জামান বাচ্চুর নানা অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে একাত্মতা জানিয়েছেন কাউন্সিলার।

রবিবার (১৭ জুলাই) বাঘারপাড়া পৌরসভার মেয়রকে বয়কটের দাবি করেছে ১২ কাউন্সিলার মধ্যে ৭ কাউন্সিলার। এবং প্যানেল মেয়র শরীফুল ইসলাম মেয়রকে সকল দুর্নীতির কাজে সহযোগিতা করায় তার ওপরে অনাস্থা জানিয়ে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ৭ কাউন্সিলার।

বাঘারপাড়া পৌরসভার মেয়র কামরুজ্জামান বাচ্চুর বিরুদ্ধে একাত্মতা জানিয়েছেন ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ফয়সাল আহম্মেদ, ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সাহিন আলম, ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ওলিয়ার রহমান, ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সর্দার শহিদুল ইসলাম, ১,২,৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার (সংরক্ষিত) সম্পা রানী সরকার, ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার (সংরক্ষিত) নমিতা স্বর্মা এবং ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার (সংরক্ষিত) তাসলিমা খাতুন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সর্দার শহিদুল ইসলাম বলেন, আই ইউ আই ডি পি ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ১০ কোটি টাকার রাস্তা, ড্রেনের কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনো ওই রাস্তা ড্রেনের কাজ শেষ হয়নি। এডিপি ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে মসজিদ, মাদ্রাসা, রাস্তা, মন্দির পৌরসভায় কাজ চলছে। মেয়র এই সকল কাজ শেষ দেখিয়ে অর্থ তুলে নিয়েছে। এছাড়াও পৌরসভায় ৪২টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইন্সে দেয় ছিলো। কিন্তু বর্তমান পৌরমেয়র নিজের আত্মীয় সারা কারুর লাইন্সে নবায়ন করেনি। সব কাজ নেয়ার জন্য ৪২টি মধ্যে ১০ টি নিজের আত্মীয়ের লাইন্সে নবায়ন করেছে। পৌর মেয়র নিজ বাসায় থাকা সত্ত্বেও প্যানেল মেয়র শরিফুল ইসলামকে দিয়ে জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারেশ কায়েমসহ সকল প্রকার কাগজপত্র স্বাক্ষর করান যা আইন পরিপন্থি। অন্যদিকে ২০১৬ সালের পর থেকে পৌরসভার সচিবের পদ খালি। পৌরসভার প্রকৌশলীকে দিয়ে সচিব সকল কাজ করানো হয় যা আইন বিরোধী।

তিনি আরো বলেন, পৌরসভায় কর্মরত মাস্টারোলের টিউবওয়েল মেকার রবিউল ইসলামকে সহকারী হিসাবরক্ষকের দায়িত্বে দিয়ে ভুয়া বিল ভাউচার করে মেয়র অর্থ আত্মসাৎ করেন। মাসিক মিটিং নিয়মিত হয় না। মাসিক মিটিং এর দিনে জোর পূর্বক ভয় দেখিয়ে পরবর্তী মিটিং এর স্বাক্ষর করিয়ে নেন। প্রতি মাসের মাসিক মিটিং এর কোন রেজুলেশনের কপি কাউকে দেয়া হয় না এবং পরবর্তী মিটিং তা পাঠও করা হয় না।

১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ফয়সাল আহম্মেদ ও ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সাহিন আলম এবং ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ওলিয়ার রহমান বলেন, অফিসিয়াল কোন কাগজপত্র চাইলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন মেয়র। উপজেলা পরিষদ থেকে টিআর এর বরাদ্দের কোন কাজ বিগত পাঁচ বছরে হয়নি। বিভিন্ন সময় কাজের জন্য তার বাসায় দেখা করতে গেলে ঘন্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখেন তিনি। এসকল কাজে সহযোগিতা করার জন্য প্যানেল মেয়র শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়েছে বলে জানান তারা।

বিষয়টি জানতে চেয়ে বাঘারপাড়া পৌরসভার মেয়র কামরুজ্জামান বাচ্চুকে একাধিবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেনি।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ