দেশ ২৫ বছর পিছিয়ে গেছে তত্ত্বাবধায়কের সরকারের দুই বছরে: বাহাউদ্দিন নাছিম

আরো পড়ুন

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছরের শাসনামলে দেশ অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। সে সময় বাংলাদেশ প্রায় ২৫ বছর পিছিয়ে গেছে বলেছেন ক্ষমতাসীন দলের এই রাজনীতিবিদ।

সম্প্রতি ওয়ান-ইলেভেনের প্রেক্ষাপট নিয়ে গণমাধ্যমকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ১/১১ এর কুশলব যারা, এর সঙ্গে জড়িতরা এবং যারা ১/১১ সৃষ্টি করেছে, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এটা তো গণতান্ত্রিক বা সংবিধানের কোথাও এর (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) অস্তিত্ব ছিল না। ছিল এক ধরণের জবরদখল। সেই দখলকারীরাই জেকে বসেছিল মানুষের কাঁধের ওপর। শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য নীল নকশা করেছিল তারা। সেই নীল নকশা ছিল গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে হত্যা করে অগণতান্ত্রিক শাসনকে প্রলম্বিত করা। তারা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে বাধা মনে করেছিল। ভেবেছিল তাকে গৃহবন্দি করে দমিয়ে রাখতে পারলে অথবা তার কণ্ঠকে রুদ্ধ করতে পারলে নির্বিঘ্নে দেশটাকে শোষণ, শাসন, নির্যাতন, নিপীড়ন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে বিরাজনীতিকরণের মাধ্যমে অরাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারবে।

এসব কারণেই ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই বর্তমান আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে জানান নাছিম।

বাহাউদ্দিন নাছিম আরো বলেন, দেশের মানুষের শান্তি-সম্প্রীতি ও উন্নতির ধারাবাহিকতাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তিনি (শেখ হাসিনা) সাহসী ভূমিকা নিয়ে অপশাসন দুঃশাসনের বিরুদ্ধে (২০০৭ সাল) কথা বলেন। অন্তত ২০ বছর দেশ শাসনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসেছিল’দাবি বাহাউদ্দিন নাছিমের।

ক্ষমতাসীন দলের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য গোয়েন্দা সংস্থার নিয়ন্ত্রণে রাজনীতিকে বিরাজনীতিকরণ করতে স্বার্থান্বেষী একশ্রেণির তথাকথিত রাজনীতিবিদ রাজনীতিতে জায়গা করে নিয়েছিল। সেই দিন তারা গণতন্ত্র ও জনগণের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল। সে সময় শেখ হাসিনা তাদের বিপক্ষে এবং তাদের অপকর্মকে রুখে দিতে কথা বলেছেন। এই কারণে তাকে গ্রেফতার হতে হয়েছিল। তারা ভেবেছিল শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের মাধ্যমে ২০ বছর নির্বিঘ্নে শাসন চালানো যাবে।

সে সময় অনেকের মধ্যেই রাষ্ট্রক্ষমতায় বসার বাসনা জেগে উঠেছিল উল্লেখ করে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, দেশের দু’একজন নামকরা অর্থনীতিবিদ সেদিন সামরিক দুঃশাসন ভেতর দিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। রাজনৈতিক দল গঠনের জন্য এগিয়ে এসেছিল। যারা কোনো দিন রাজনীতি করেননি তারাও দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখলো। হাঁকডাক দিয়ে নামার পর ঘরে ঢুকে গেছে। কারণ রাজনীতি রাজনীতিবিদরাই করে।

সেনাশাসনের দুই বছরের মধ্যে ১১ মাস আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারাগারে ছিলেন। সে সময় নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, সেই ১১ মাস তিনি (শেখ হাসিনা) নির্যাতিত ও নিগৃহীত হয়েছেন। তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। তাকে নানা ধরণের নিগ্রহ এবং তার চরিত্রহননের জন্য বিভিন্ন চেষ্টা হয়েছে। এগুলো কোনোটা করেই তারা পার পায়নি। তারা কোনোটাতেই সফল হতে পারেনি।

সেই দুই বছরে দেশ ২৫ বছর পিছিয়ে গেছে বলে দাবি করে ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা বলেন, বাংলাদেশে ২৫ বছরের মতো অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে গেছে। পঁচাত্তরের পর জিয়া এবং এরশাদরা যেভাবে ধারাবাহিকতা করে বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিয়েছিল। ২০০৭ সালে সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধায়ক সরকারও একইভাবে দেশকে ২০ থেকে ২৫ বছরের মতো পিছিয়ে দিয়েছে। দুই বছরে অর্থনৈতিকভাবে দেশ পিছিয়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কলকারখানা সমস্ত কিছুতে দেশ পিছিয়ে গেছে।

ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিন সরকারের সময় দেশের বহু ক্ষতি হয়েছে জানিয়ে নাছিম বলেন, বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসনের সময় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তত্ত্বাবধায়কের দুই বছরেও কোনো অংশে কম ক্ষতি হয়নি। বরং ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনদের দুঃশাসনের সময় কয়েক গুণ বেশি ক্ষতি হয়েছে। কারণ তারা সমস্ত কিছুকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল।

এখনো দেশের ক্ষতি হচ্ছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই রাজনীতিবিদ বলেন, এখনো দেশের ক্ষতি হচ্ছে। কারণ প্রকৃত অর্থে এখনও তাদের (সামরিক শাসন) স্বরূপটা প্রকাশিত হয়নি। ওয়ান-ইলেভেনের দুঃশাসনের যে ক্ষতি, এটা অপূরণীয় ক্ষতি। এই ক্ষতি মূল্যায়িত করা যাবে না। এটা জাতীয় স্বার্থবিরোধী ক্ষতি। এই ক্ষতির বিপক্ষের শক্তি কিন্তু এখনও বসে নেই।

অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে উল্লেখ করে বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, অতীতের দিনগুলো আমাদেরকে মনে রাখতে হবে। এর জন্য আপনাদের (সাংবাদিক) লেখনির ভেতর এই ঘটনাগুলো তুলে ধরা দরকার। এগুলো ভুলে গেলে আরেকটা আসবে। এর থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের আগামী দিনের পথ চলতে হবে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ