যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের শতবর্ষী মৃত গাছ কেটে ছয়লেন সড়কের দাবিতে মানববন্ধন

আরো পড়ুন

শাহ জামাল শিশির, ঝিকরগাছা: যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের দুই পাশের মৃত ও ঝুকিপূর্ণ গাছ কাটার জন্য ফুলের রাজ্যখ্যাত ঝিকরগাছার গদখালী মানববন্ধন করা হয়েছে।

রবিবার (৩ জুলাই) সকাল দশটায় গদখালী ফুল মার্কেট চত্বরে মানববন্ধনে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়। মানববন্ধনে সার্বিক সহযোগিতা করেছে ঝিকরগাছার অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংঠন সেবা ও যশোর নাগরিক অধিকার আন্দোলন কমিটি।

বৈরি আবহাওয়া আর বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানবন্ধনে সহস্রাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে। যশোরের সর্বস্তরের জনগণ, ১২টি স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই মানববন্ধনে অংশ নেয়।

এসময় বক্তারা বলেন মানুষের জীবনের নিরাপত্তার জন্য অনতিবিলম্বে মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কাটতে হবে। এবং যশোর-বেনাপোল মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নিত করতে হবে।

অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেবার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাস্টার আশরাফুজ্জামান বাবুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা নাগরিক অধিকার আন্দোলন কমিটির আহবায়ক মাস্টার নুর জালাল।

তিনি বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের জানমালের নিরাপত্তার জন্য মৃতগাছ অপসারণ করতে হবে। বেনাপোল বন্দর থেকে নির্বিঘ্নে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল এবং পদ্মা সেতুর সুবিধা ভোগের জন্য যশোর বেনাপোল মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নিত করা একান্ত জরুরী।

ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্সের পরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, ভারতের হাইকোর্ট ইতোমধ্যে ভারতের অংশে যশোর রোডের গাছ কাটার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। এই অঞ্চলে গাছের ডাল ভেঙে কয়েকজন মারা গেছে৷ আমরা প্রয়োজনে কেস করে এদের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করবো।

যশোর নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নির্বাহী সদস্য আহসান উল্লাহ ময়না বলেন, যশোর অঞ্চলে মানুষের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই গাছ। বেনাপোল বন্দরের পদ্মা সেতুর সুবিধা ভোগের জন্য ভাটিয়াপাড়া থেকে বেনাপোল পর্যন্ত ছয় লেনের সড়ক অত্যন্ত জরুরী। মরা গাছের ছবি এডিট করে পাতা লাগিয়ে হাইকোর্টে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। যশোরের উন্নয়নের স্বার্থে মামলা প্রত্যাহার করে এই রাস্তাকে ছয় লেনে উন্নিত করতে হবে।

নাগরিক অধিকার আন্দোলন যশোরের সমন্বায়ক মাসুদুজ্জামান মিঠু বলেন, সড়কের পাশের গাছ পরিবেশের জন্য না। পরিবেশের জন্য বন তৈরী করতে হবে, বননায়ন করতে হবে। বেনপোল বন্দর থেকে প্রতিদিন চার হাজার ট্রাক এই রোডে যাতায়াত করে। এজন্য সড়কের দু’পাশের মৃত ও ঝুকিপূর্ণ গাছ অসারণ করে রাস্তাকে ছয় লেনে উন্নিত করতে হবে।

সেবা সংগঠনের সভাপতি মাস্টার আশরাফুজ্জামান বাবু বলেন, মানুষের জন্য গাছ, গাছের জন্য মানুষ না। অনতিবিলম্বে এই মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো অপসারণ করতে হবে। সময়ের প্রয়োজনে মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে, বেনপোল স্থল বন্দরের রাজস্বের কথা বিবেচনা করে এই রাস্তা ছয় লেনে উন্নিত করে দু’ধারে আবার গাছ লাগাতে হবে।

মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির একাংশের সভাপতি আব্দুর রহিম, পানিসারা গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মীর বাবরজান বরুন, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন গদখালী শাখার সভাপতি আলমগীর হোসেন, গদখালী বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল হোসেন, মানুষ মানুষের জন্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি সায়েদ আলী, মানবাধিকার কল্যাণ ট্রাস্ট, গদখালি শাখার সভাপতি ইমামুল হোসেন, বন্ধন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আহবায়ক আলমগীর হোসেন প্রমূখ।

উল্লেখ্য যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের মৃত ও ঝুকিপূর্ণ গাছ অপসারণে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে এলাকাবাসী৷ তবে গাছ কাটার ব্যাপারে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে গাছ অপসারণ করা যাচ্ছেনা বলে জানিয়েছে গাছের মালিকানা দাবিদার যশোর জেলা পরিষদ৷

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরে জেলা পরিষদকে বিধি মোতাবেক গাছ অপসারণের জন্য চিঠি দেয় ঝিকরগাছা ও শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

জাগো/এমআই

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ