আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ মারা গেছেন। বুধবার (২৯ জুন) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। নির্মল রঞ্জনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের মাঝে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছে স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনগুলো।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের এই নেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। শোক সংবাদ ও রঞ্জন গুহের ছবিতে ছেয়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ছাত্রলীগের হাত ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে পথচলা শুরু করা এই নেতার মৃত্যুর খবর অনেকের কাছে যেন শোকের পাহাড়। প্রিয় নেতার মৃত্যুর শোকে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছেন অনেকে। নির্মল রঞ্জন গুহের সঙ্গে স্মৃতি শেয়ার করতেও দেখা গেছে ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মীকেও।
ছাত্রজীবনে নির্মল রঞ্জন গুহ নয়াবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মল রঞ্জন গুহ। অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হলো। একজন ভালো মানুষ ছিলেন। মনেপ্রাণে রাজনৈতিক মানসিকতা পোষণ করতেন। পরপারে ভালো থাকবেন দাদা’।
ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা, রাজপথের লড়াকু সৈনিক বন্ধুবর বাবু নির্মল রঞ্জন গুহের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করছি…প্রিয় বন্ধুর আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’
ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সারোয়ার কবির লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মানিত সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ দাদা কিছুক্ষণ আগে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ নোভেনা হাসপাতালে মারা গেছেন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এতো বড় দুঃসংবাদ! অকালে চলে গেলেন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল দা!’
গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান যুবলীগের নেতা হীরা সরকার তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ দাদা আর আমাদের মাঝে নেই। দাদার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।’
গাজীপুর মহানগরের ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগ নেতা তৌহিদুল ইসলাম দীপ লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মানিত সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ দাদা কিছুক্ষণ আগে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ নোভেনা হাসপাতালে মারা গেছেন। তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।’
ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদার লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ নোভেনা হাসপাতালে মারা গেছেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি নির্মল গুহ’দা ছিলেন দলের অকৃত্রিম যোদ্ধা তাঁর সাথে অনেক স্মৃতি কোন একদিন সেসব কথা লেখা যাবে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি আত্মার শান্তি কামনা করছি।’
ছাত্রলীগের বর্তমান সহ-সভাপতি অসিম কুমার বৈদ্য লিখেছেন, ‘বিনম্র শ্রদ্ধা শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা, পরপারে ভালো থাকবেন, এই প্রার্থনা করি।’
রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রকি কুমার ঘোষ লিখেছেন, ‘ওপারে ভালো থাকবেন দাদা। মেনে নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে দাদা’
শোক সংবাদে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিকবিষয়ক উপ-সম্পাদক ও সাবেক কবি নজরুল কলেজের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাওলাদার লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মানিত সভাপতি ‘নির্মল রঞ্জন গুহ’ দাদা কিছুক্ষণ আগে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ নোভেনা হাসপাতালে মারা গেছেন। উনার আত্মার শান্তি কামনা করছি!’
টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ দাদা কিছুক্ষণ আগে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ নোভেনা হাসপাতালে পরলোক গমন করেছেন। তার আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’
এছাড়াও অসংখ্য নেতাকর্মী, বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মী, সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শোক জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন লেখা পোস্ট করেন।
নির্মল গুহ ছাত্র রাজনীতি শেষে স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। মোল্লা কাওছার ও পঙ্কজ দেবনাথের কমিটির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি পদে ছিলেন নির্মল। দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতি করে আসা এই নেতার ওপর আস্থা রেখেছিল আওয়ামী লীগ।

