নিজস্ব প্রতিবেদক: নদীপথে পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে রাজধানী ঢাকার প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট। এখন একমাত্র এই নৌরুটই সেতুবিহীন। এই ঘাট দিয়েই খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া অঞ্চলের যাত্রীরা লঞ্চ বা ফেরি করে এতদিন পারাপার হয়েছেন। খুলনা ও বরিশালের যানবাহন আজ থেকে মাওয়া হয়ে নতুন পদ্মাসেতু দিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছে।
গতকাল শনিবার (২৫জুন) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর রবিবার (২৬জুন) ভোর ৫টা ৫০ মিনিট থেকে যান চলাচলের জন্য তা উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এর প্রভাব পড়েছে ফেরি ঘাটগুলোতে। বর্তমানে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট এলাকা অনেকটাই যানবাহন শূন্য ও কোলাহলমুক্ত। আজ আর সেখানে যানবাহনের কোনো চাপ নেই।
যশোর থেকে রওনা দেয়া দেশ ট্রাভেলের চালক আব্দুল্লাহ বলেন, ৩৫ বছর ধরে পরিবহনের সাথে আছি। কোনোদিন এতো ফাঁকা ঘাট দেখিনি। এ পথ দিয়ে যেসব গাড়ি চলাচল করছে তার প্রায় সবটাই ফাঁকা। যাত্রী নেই। ঘাটও অচেনা লাগছে। কোনো কোলাহল নেই।
এই পরিবহনের যাত্রী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘২০ বছর ধরে নিয়মিত যশোর-ঢাকা আসা যাওয়া করছি ব্যবসার কাজে। এতো ফাঁকা ঘাট আগে কখন দেখিনি। সবই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদ্মা সেতুর সাফল্য।’
রয়েল এক্সপ্রেসের যাত্রী সাঈদ হোসেন বলেন, ‘এত দ্রুত কখনও ফেরি পাইনি। অল্প সময়ে ফেরি পার হতে পরে আনন্দ লাগছে । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে এই সুফল পেয়েছি।’
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) শাহ খালেদ নেওয়াজ জানান, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাতায়াতের অন্যতম নৌরুট পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় ২১টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। মাওয়ায় পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় সকাল থেকেই যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কমেছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে। বর্তমানে ঘাট এলাকা একেবারেই স্বাভাবিক রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, যাত্রীবাহী বাস ও ব্যক্তিগত ছোট গাড়ি ঘাটে আসা মাত্রই ফেরির দেখা পাচ্ছে। বর্তমানে ফেরি যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছে। ঘাটে যাত্রী ও যানচালকদেরও কোনো ভোগান্তি নেই।
জাগো/এমআই

