পদ্মা সেতুতে বাস ভাড়া বাড়ছে ১০ টাকা

আরো পড়ুন

পদ্মা সেতু হয়ে চলাচলকারী বাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এতে সায়েদাবাদ থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী বাসের ভাড়া কিছুটা বাড়ছে।

পরিবহনমালিক ও বিআরটিএ কর্মকর্তারা বলছেন, পদ্মা সেতুর টোল যোগ করার পর প্রায় সব রুটেই গড়ে ১০ টাকা করে ভাড়া বাড়ছে। তবে পাটুরিয়া হয়ে দক্ষিণে চলাচলকারী বাসের তুলনায় পদ্মা হয়ে চলাচলকারী বাসের ভাড়া কমই থাকছে। সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের (সওজ) নির্ধারণ করা দূরত্বের তালিকা ধরে বিআরটিএ বাসের ভাড়া ঠিক করে।

গতকাল বুধবার বিআরটিএ ওই পথে আগে থেকেই চলাচলকারী ৪০ আসনের বাসের পুরোনো ভাড়ার সঙ্গে সেতুর টোল যুক্ত করে নতুন ভাড়া হার ঠিক করেছে।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, বর্তমানে মাওয়া হয়ে ১৩টি রুটে বাস চলাচলের অনুমতি আছে। ভবিষ্যতে আরো কোনো নতুন রুটে কেউ বাস নামালে এর জন্য নতুন ভাড়ার হার ঠিক করা হবে।

বর্তমানে প্রতি কিলোমিটারে প্রত্যেক যাত্রীর ভাড়া ১ টাকা ৮০ পয়সা। সাধারণত, এই ভাড়া ৫১ আসনের জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ বড় বাস আরামদায়ক করার জন্য ৪০ বা এর চেয়ে কম আসন নিয়ে চলাচল করছে। এ জন্য ৫১ আসনের বাসের ভাড়া ৪০ আসনে রূপান্তর করে ভাড়া হার ঠিক করে থাকে বিআরটিএ।

বিআরটিএর নতুন তালিকা অনুসারে, মাওয়া, ভাঙ্গা ও মাদারীপুর হয়ে বরিশালের দূরত্ব ১৫৬ কিলোমিটার। এই পথে আগে সরকার নির্ধারিত ভাড়া ছিল ৪০২ টাকা। পদ্মা সেতুর চালুর পর এই ভাড়া হবে ৪১২ টাকা। ঢাকা থেকে মাওয়া, ভাঙ্গা ও রাজৈর হয়ে গোপালগঞ্জের দূরত্ব ১৮৮ কিলোমিটার। এখন এই পথের চলাচলকারী বাসের ভাড়া ৪৯৪ টাকা। পদ্মা সেতু চালু হলে ভাড়া দাঁড়াবে ৫০৪ টাকা।

গোপালগঞ্জ হয়ে ঢাকা থেকে খুলনার দূরত্ব ২৪৭ কিলোমিটার। এই পথে এখন সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৬৩৯ টাকা। পদ্মা সেতু দিয়ে চলতে হলে ভাড়া দিতে হবে ৬৪৯ টাকা।

মাওয়া ও জাজিরা হয়ে শরীয়তপুরের দূরত্ব ৭৩ কিলোমিটার। এই পথে বর্তমানে ভাড়া ২০৮ টাকা। পদ্মা সেতু চালু হলে ভাড়া দিতে হবে ২১৮ টাকা।

মাওয়া, ভাঙ্গা ও বরিশাল হয়ে পিরোজপুরের দূরত্ব ২০৬ কিলোমিটার। এই পথের ভাড়া ৫২৪ টাকা। পদ্মা সেতু দিয়ে চলতে হলে ভাড়া গুনতে হবে ৫৩৪ টাকা।

ঢাকা থেকে মাওয়া, ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাট হয়েও পিরোজপুরের একটি রুট আছে। এই পথের দূরত্ব ২৩৯ কিলোমিটার। এখন সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৬১৮ টাকা। পদ্মা সেতু চালুর পর এই ভাড়া বেড়ে দাঁড়াবে ৬২৮ টাকা।

ভাঙ্গা ও বরিশাল হয়ে পটুয়াখালীর দূরত্ব ১৯২ কিলোমিটার। বর্তমান ভাড়া নির্ধারিত আছে ৪৯১ টাকা। পদ্মা সেতু চালুর পর ভাড়া দাঁড়াবে ৫০১ টাকা।

মাওয়া ও ভাঙ্গা হয়ে মাদারীপুরের দূরত্ব ১১১ কিলোমিটার। এখন এই পথে ভাড়া ৩১৭ টাকা। পদ্মা সেতু দিয়ে চলার সময় ভাড়া হবে ৩২৭ টাকা।

মাওয়া, ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ ও খুলনা হয়ে সাতক্ষীরার দূরত্ব ২৫০ কিলোমিটার। এই পথের বর্তমান ভাড়া ৬২৩ টাকা। পদ্মা সেতু দিয়ে চলতে হলে প্রতি যাত্রীকে ভাড়া দিতে হবে ৬৩৩ টাকা।

মাওয়া ও ভাঙ্গা হয়ে ফরিদপুরের দূরত্ব ১০২ কিলোমিটার। বর্তমান ভাড়া নির্ধারিত আছে ২৭৮ টাকা। পদ্মা সেতু দিয়ে চলতে হলে ভাড়া বেড়ে দাঁড়াবে ২৮৮ টাকা।

মাওয়া, ভাঙ্গা, মাদারীপুর, বরিশাল ও ভোলা হয়ে চরফ্যাশনের দূরত্ব ২৫৭ কিলোমিটার। এখন এই পথে ভাড়া ৬৪৪ টাকা। পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে গেলে ভাড়া দাঁড়াবে ৬৫৪ টাকা।

বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতু, মাওয়া ও জাজিরা হয়ে শরীয়তপুর যাওয়ার আরেকটি পথ আছে। এই পথের দূরত্ব ৭৩ কিলোমিটার। বর্তমানে এই পথের ভাড়া ২০৯ টাকা। পদ্মা সেতু চালুর পর সেতু দিয়ে গেলে ভাড়া হবে ২২০ টাকা।

ঢাকা থেকে মাওয়া, ভাঙ্গা, মাদারীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী হয়ে পর্যটন শহর কুয়াকাটার দূরত্ব ২৭৬ কিলোমিটার। বর্তমান ভাড়া ৬৮৪ টাকা। পদ্মা সেতু হয়ে চলতে প্রত্যেক যাত্রীর ভাড়া বেড়ে হবে ৬৯৪ টাকা।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ