চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের চৌগাছায় ঝুলন্ত অবস্থায় এক নির্মাণ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। রবিবার (৫ জুন) সকালে পৌরসভার বিশ্বাস পাড়া মডেল হাই স্কুল সংলগ্ন থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের গলায় ঝুলন্ত অবস্থাতেই বাজারের ব্যাগ প্যাচানো লক্ষ্য করা গেছে।
নিহত যুবকের নাম রুমান ফকির (১৯)। সে পিরোজপুর সদর উপজেলার বাইনখালি গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। গত দুই বছর ধরে স্থানীয় ডিভাইন হাসপাতালে নির্মাণ শ্রমিক হিসাবে কাজ করতেন তিনি।
পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় তার সহকর্মীদের ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসি জানিয়েছে, নিহত রুমান ফকির পিরোজপুর জেলা থেকে চৌগাছা এলাকায় ডিভাইন হাসপাতালে নির্মাণ শ্রমিক হিসাবে কাজ করতেন। তার সাথে তার খালাতো ভাই সাইমুন ও মামাতো ভাই আলামিনসহ এলাকার ৮ জন একই কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। নিহত রুমান ফকিরসহ সকলে পৌরসভার বিশ্বাস পাড়ার তবিবর রহমানের বাড়ীতে ভাড়ায় থাকতেন।
নিহতের মামতো ভাই আলামিন জানান, শনিবার (৪ জুন) রাত ১১টায় রাতের খাবার খেয়ে তারা মোবাইলে বিভিন্ন ভিডিও দেখে। এরপর যে যার মত নিজ পরিবারের সাথে ফোনে কথা বলে। কথা বলা শেষে হলে তারা সকলে ঘুমাতে যায়।
তিনি আরো বলেন, রবিবার ভোরে আমরা কাজে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিই। আমরা ভেবেছি রুমান আগেই বের হয়ে গেছে। কিন্তু পরেই আশেপাশের লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি পাশের নির্মাণাধীন গোয়াল ঘরে রুমান ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গলায় দড়ি দেয়া লাশ ঝুলান্ত অবস্থায় দেখে আমরা পুলিশে খবর দিই। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থালে এসে নিহতের লাশ উদ্ধার করেন। তবে স্থানীয়রা বলেন, রহস্যজনক একটি ঘটনা রয়েছে লাশকে ঘিরে। সেটা হলো গলায় যেখানে ফাঁস দেয়া সেখানে আগে থেকেই গলায় একটি বাজারের ব্যাগ প্যাচানো রয়েছে। ব্যাগ প্যাচানোর বিষয়ে অনেকে ধারনা করছে গলায় যাতে ব্যাথা না লাগে সেজন্য রুমান ফাঁসের আগে বাজারের ব্যাগ গলায় জড়িয়ে নেয়। নাকি অন্য কোন রহস্য আছে সেটিও খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশের কাছে অনুরোধ করেন অনেকে।
চৌগাছা থানার ওসি (তদন্ত) ইয়াসিন আলম চৌধুরী জানান, স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে ঘটনাটি আমরা জানতে পেরে সেখানে উপস্থিত হয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে যশোর মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন প্রাথমিকভাবে আমরা ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারনা করছি। তবে যেহেতু নিহত যুবক অন্য জেলার বাসিন্দা। সেকারনে ছোটখাট সূত্রগুলো আমরা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।
জাগো/এমআই

