সন্ত্রাসী স্টাইলে ঘের দখলের পায়তারা শুরু করেছেন জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির নির্দেশে একদল দুর্বৃত্ত। রবিবার (২২ মে) বিকালে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম আশিকুর রহমান নগরঘাটার জাহাঙ্গীর হোসেন নামে এক ব্যাক্তির কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তার সন্ত্রাসী বাহিনীরা তালা উপজেলার নগরঘাটা বিলে দখল যজ্ঞ চালায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরঘাটা ইউনিয়নের মজিদ বাঁজের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন নগরঘাটা ইউনিয়নের উত্তর নগরঘাটা জেলেপাড়ার তারক নাথ মন্ডলের ছেলে স্বপন মন্ডলের নগরঘাটা দক্ষিণ বিলে ১৮০ মৎস্য বিঘা ঘের নিয়ে বিবাদ চলে আসছিল। এ নিয়ে বহুবার স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ থানা পুলিশের মাধ্যমে বসাবসি হলেও তার সমাধান হয়নি। বিকালে জাহাঙ্গীর ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ঘটনাস্থলে এসে ১০ থেকে ১২ বিঘার মত জমি মাটি কাটা এক্সেভেটর দিয়ে বেঁধে নেয়া চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের তোপের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় তারা।
ঘের মালিক স্বপন মন্ডল জানান, জাহাঙ্গীরের পিতা মজিদের কাছ থেকে গত বছর থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ১৮০ বিঘার মৎস্য ঘের করার ডিড (চুক্তি) পত্রে নিজে স্বাক্ষর করে তার নামে । ঘেরের ডিড থাকা সত্বেও জাহাঙ্গীর বিভিন্নভাবে সন্ত্রাসীদের নিয়ে একের পর এক তাণ্ডব চালানোর চেষ্টা করছেন। পুনরায় জেলা ছাত্রলীগসহ কিছু ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে সে ঘের দখলের চেষ্টা চালায়। ওই সময় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পাশ্ববর্তী লাবসা ইউনিয়নের এক বাজারে বসে থাকে। ছাত্রলীগের সভাপতির নির্দেশে পলাশ, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের নেতা সানজির, জেলা মুজিব সেনা পরিষদের নেতা রুহুল সহ বেশ কয়েকজন উপস্থিত হয়ে এক্সেভেটর মেশিন দিয়ে ঘের বাঁধার চেষ্টা চালায়। পরে পুলিশ ও এলাকাবাসীর তেপের মুখে পড়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি ঘের দখল রোধে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারসহ পাটকেলঘাটা থানা পুলিশের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
নগরঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান লিপু ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, বিকালে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে একদল মাদক সেবী যুবক স্বপনের ঘের দখলের পায়তারা চালায়। ওই সময় আশিকুর রহমান রাজনগর এলাকার ঢ্যাবঢেবি বাজারে অবস্থান করে হামলা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলে স্থানীয়রা দেখেছিলেন। পরে জনগনের তোপের মুখে পড়ে সেখান থেকে পালিয়ে রক্ষা পান তিনি।
পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাঞ্চন কুমার রায় জানান, ঘটনাস্থলে বাদী বিবাদী দুপক্ষের ১৪৫ জারি করা রয়েছে। কোন একপক্ষ ঘের দখল করতে গেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা পালিয়ে যায়।

