জাহিদ হাসান সোহান (যশোর) চৌগাছাঃ যশোরের চৌগাছায় এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের প্রশংসাপত্র প্রদান বাবদ ফরম ফিলআপের বোর্ড কর্তৃক ফেরত দেওয়া টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। যশোর শিক্ষাবোর্ড শিক্ষার্থীদের থেকে ফরম ফিলআপ বাবদ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯’শ ৫০টাকা, ব্যাবসায়িক ও মানবিক বিভাগ থেকে ১৮’শ ৫০ টাকা গ্রহণ করে। করোনা মহামারীর কারণে সব বিষয়ে পরীক্ষা না হওয়াই স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগের শিকক্ষার্থীদের ৫’শ ২৫ টাকা, ব্যাবসায়িক ও মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ৩’শ ৩০ টাকা করে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অন্যান্য স্কুল এই টাকা শিকক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করলেও মুক্তারপুর আম-জামতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রশংসাপত্র বাবদ সে টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে জানিয়েছে একাধিক শিক্ষার্থী।
এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরপর-ই উপজেলার মুক্তারপুর আম-জামতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা প্রশংসাপত্র আনতে গেলে তাদেরকে জানিয়ে দেয়া হয় প্রতি জনকে প্রশংসাপত্র বাবদ ৩’শ টাকা নিয়ে আসতে হবে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা প্রশংসাপত্র ছাড়া উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্র্তির জন্য আবেদন করতে পারবে না। এই সুযোগে তাদের কে জিম্মি করে বাড়তি টাকা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে একাধিক শিক্ষার্থী। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার মুক্তারপুর আম-জামতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে টাকার বিনিময়ে ৫০ জনের অধিক শিক্ষার্থী প্রশংসাপত্র নিয়েছে।
ওই বিদ্যালয় থেকে নাম প্রাকাশে অনিচ্ছুক এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, ‘ফলাফল প্রকাশের পরে স্কুলে প্রশংসাপত্র আনতে গেলে আমাকে প্রশংসা পত্র দেওয়া হয়। আমি যখন বোর্ড কর্তৃক ফেরত দেওয়া টাকা চাই তখন প্রধান শিক্ষক আমাকে বলেন প্রশংসা পত্র বাবদ টাকা কেটে রাখা হয়েছে। টাকা নিতে হলে প্রশংসা পত্র জমা রেখে যেতে হবে। কোনো টাকা ফেরত দিতে পারবোনা।
মুক্তারপুর আম-জামতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম শরিফুল আলমের কাছে জানতে চাইলে, তিনি শুরুতে বিষয়টি অস্বীকার করেন। শিকক্ষার্থীদের থেকে পাওয়া প্রমান উল্লেখ করলে তিনি বলেন, স্কুলের আনুসাঙ্গিক ব্যায়ের জন্য শিক্ষার্থীদের থেকে প্রশংসাপত্র বাবদ ৩’শ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বোর্ড কর্তৃক ফেরত দেওয়া টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা খুশি হয়ে টাকা দিয়ে গেছে। জোর পূর্বক কারো থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছেনা।
মুক্তারপুর আম-জামতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি তৌহিদুজ্জামান মিঠু জানান, বিগত দুই মাস আগে শিক্ষাবোর্ড থেকে ফিরিয়ে দেওয়া টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। পরে এ ব্যাপারে আমি জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, টাকা শিকক্ষার্থীদের মাঝে সঠিক বন্টন করা হয়েছে। অনিয়মের ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম রফিকুজ্জামান বলেন, শিকক্ষাবোর্ড থেকে প্রদান করা টাকা প্রত্যেক স্কুলের ব্যাংক একাউন্টে পাঠানো হয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের উচিত টাকাগুলো শিক্ষার্থীদের মাঝে সঠিক বন্টন করা। এই বিষয়ে কোনো অনিয়ম হলে ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা বলেন, এ বিষয়ে আমরা এখনো পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। ঘটনার সত্যতা মিললে এই বিষয়ে ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রশংসাপত্র বাবদ শিক্ষার্থীদের থেকে আদায় করা টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
জাগো/এমআই

