‘প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার কেড়ে নিলেন রেলমন্ত্রী’

আরো পড়ুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেনাপোল বন্দরের গুরুত্ব বিবেচনা করে ব্যবসায়ী আর চিকিৎসাসেবীদের স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াতে বেনাপোল-ঢাকা রুটে অত্যাধুনিক সুবিধা নিয়ে চালু হয় যাত্রীবাহী রেল সার্ভিস ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’। করোনার কারণে ৮ মাস বন্ধ থাকার পর গত ডিসেম্বরে পুনরায় এই রুটে রেল চলাচল শুরু হলেও ইন্দোনেশিয়ার তৈরি রেলটি পরিবর্তন করে নিম্নমানের বগি দিয়ে চালু করা হয়েছে। অনিয়ম করে রেলটি অন্য রুটে নিয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেনাপোল-যশোরবাসী। যাত্রীদের অভিযোগ, ‘এখন যে ট্রেন দিয়ে বেনাপোল এক্সপ্রেস পুনরায় চালু করা করা হয়েছে সেটিতে যাত্রীসেবার মান সন্তোষজনক নয়। ফলে যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না হওয়াতে কমেছে যাত্রী। তবে রেল কর্তৃপক্ষ বলছেন, চলমান সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ভারতগামী যাত্রীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বেনাপোল-ঢাকা রুটে আন্তঃনগর ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে সড়কপথে দুর্ভোগ থেকে রেহাই পান অনেক যাত্রী। ঢাকার সঙ্গে রেল যোগাযোগ চালু হওয়ায় বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানির কাজে নিয়োজিত ব্যবসায়ীদের যাতায়াতও সহজ হয়। পাশাপাশি পাসপোর্টধারী যাত্রীরাও যাতায়াতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। শুরু থেকে ইন্দোনেশিয়ার তৈরি ৮৮৬ আসনবিশিষ্ট বেনাপোল এক্সপ্রেস চলাচল করে আসছিল। ১২টি বগির মধ্যে কেবিনে ছিল ৪৮ আসন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার ছিল ৭৮টি। বাকি ৭৬০টি ছিল নন এসি চেয়ার। রেলটিতে উন্নতমানের এসি চেয়ার কোচ, কেবিন ও নামাজের ব্যবস্থা ছিল। সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ছাড়া ৬ দিন চলাচল করে বেনাপোল এক্সপ্রেস। করোনার কারণে ৮ মাস বন্ধ থাকার পর আবারো গত ২ ডিসেম্বর থেকে এ পথে চালু হয়েছে বেনাপোল এক্সপ্রেস। তবে ইন্দোনেশিয়ার তৈরি আগের রেলটি পরিবর্তন করে নিম্নমানের ভারতের তৈরি রেল দেওয়ায় অনেকটা ক্ষুব্ধ হয়েছেন এ রুটের যাত্রীরা। এ রেলটিতে প‚র্বের কোনো সুবিধা নেই। ট্রেনটিতে নেই কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরা। আটটি বগিতে ৪৮টি কেবিন আসন আছে। বাকি ৭৪৫টিই ননএসি চেয়ার। রেলকর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আগের রেলটি পঞ্চগড় রুটে চালানো হচ্ছে আর সেখানকার রেলটি দেওয়া হয়েছে বেনাপোল রুটে। যাত্রীরা ইন্দোনেশিয়ার তৈরি রেলটি বেনাপোল-ঢাকা রুটে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ওবাইদুল ইসলাম নামে এক রেলযাত্রী জানান, ভাঙ্গাচোড়া কয়েকটি বগি দিয়ে পুনরায় বেনাপোল এক্সপ্রেস চালু করা হয়েছে। এই ট্রেনটির ব্যবস্থাপনা লোকাল ট্রেনের মত। বগিতে দুগন্ধ, সিটের ব্যবস্থা ভালো না। সজীব নামে এক যাত্রী বলেন, বেনাপোল এক্সপ্রেসের প‚র্বের রেলটি পরিবর্তন করায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা ভোগ করতে হচ্ছে। নামাজের ব্যবস্থা নেই, এসি চেয়ার কোচ নেই, বাথরুম ভালো না। বেনাপোলবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের রেলটি বর্তমানে উত্তরবঙ্গে নিয়ে গেছেন রেলমন্ত্রী। নিম্নমানের রেল দিয়েছেন বেনাপোল রুটে। বেনাপোল-ঢাকা রুটে পূর্বের ট্রেনটি ফিরেয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি। এই বিষয়ে যশোর রেলস্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান জানান, প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দকৃত ট্রেনটি বেনাপোলে যুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা। এটিতে প‚র্বের সুবিধা নেই। কিছুটা যাত্রীও কমেছে। বিষয়টি রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

এদিকে, ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা নতুন রেল কোচটি আবার এই রেলপথে চালুর দাবিতে শনিবার যশোর রেল স্টেশনে মানববন্ধন করেছে যশোরবাসী। মানববন্ধন শেষে যশোর রেলস্টেশন মাষ্টারের মাধ্যমে রেলমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন মানববন্ধনে অংশনেওয়া নেতৃবৃন্দ। মানববন্ধনে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে সারা দেশের মতো বেনাপোল-ঢাকা রেললাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অন্য সব রুটে ট্রেন চলাচল করলেও অজ্ঞাত কারণে এই রুটে দেরিতে হলেও গত ২ ডিসেম্বর ট্রেন চলাচল শুরু করা হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা আধুনিক সুবিধা সংবলিত রেল কোচটির বদলে ভারত থেকে আমদানি করা বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস দিয়ে যশোর-বেনাপোল রেলপথে ট্রেন চলাচল শুরু করে, যা দেখে তারা বিস্মিত হয়েছেন। এই পথে ভারত থেকে আগত পর্যটকেরা যাতায়াত করেন। দেশের অন্যতম লাভজনক রুট এটি। ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা ট্রেনটি আবার চালুর দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে যশোর থেকে আন্তঃনগর ট্রেনের আসন বৃদ্ধি, ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি বন্ধ ও খুলনা বেনাপোল কমিউটার ট্রেন সকালে বেনাপোল থেকে ছেড়ে যাওয়ার সময়সূচি নির্ধারণের দাবি জানান। মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের জেলা শাখার সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন, বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা সমন্বয়ক হাসিনুর রহমান ও জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ভিটু প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, বেনাপোল বন্দরে আমদানি বাণিজ্য থেকে বছরে সরকারের ৬ হাজার কোটি টাকা ও ভ্রমণ খাতে প্রায় ১০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়। ব্যবসা, শিক্ষা, ভ্রমণ ও চিকিৎসার প্রয়োজনে প্রতি বছর প্রায় ১৮ লাখ মানুষ ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াত করে। সড়কপথে যাতায়াতে ফেরিতে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ ও সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতকারী যাত্রীদের দাবি ছিল বেনাপোল-ঢাকা রুটে রেল সার্ভিস চালু করা।

জাগো/এমআই

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ