ঝিনাইদহে কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি, বজ্রপাতে এক নারী মৃত্যু

আরো পড়ুন

আর আই রাজিব, ঝিনাইদহ:  ঝিনাইদহে ১০ মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিন উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম। বজ্রপাতে পশু ও মানুষের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২১ মে) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে হঠাৎ করেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। মুহূর্তেই বৃষ্টির সাথে শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়।

এলাকাবাসীসূত্রে জানা যায়, কালবৈশাখী ঝড়ে কালীগঞ্জ উপজেলার এনায়েতপুর, রঘুনাথপুর, পিরোজপুর ও খোসালপুরসহ ১০টি গ্রাম ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১০ মিনিট স্থায়ী হওয়া এই ঝড়ে বাড়িঘর, বিদ্যুতের পোল ও বিভিন্ন গাছ ভেঙে পড়ে। এছাড়া বিভিন্ন ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। একই সঙ্গে হরিণাকুন্ডু উপজেলা জোড়াদহ, মালিপাড়া, তৈলটুপিসহ কয়েকটি গ্রামের কলা ও পানের বরজ নষ্ট হয়েছে।

এদিকে শৈলকূপা উপজেলার কুলচারা গ্রামে বজ্রপাতে স্বামী আহত ও স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। সকালে তারা দুজনে বাড়ির পাশের মাঠে বেগুন তুলতে যায়। পরে ঝড় থামার পরে স্থানীয়রা মাঠে গিয়ে তাদের অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রুপসী খাতুনকে মৃত ঘোষণা করে। আহত গোলাম নবীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

অপরদিকে সদর উপজেলার ডেফলবাড়িয়া গ্রামে বজ্রপাতে গোয়াল ঘরের দুটি মহিষ মারা গেছে। যার বর্তমান মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের।

এছাড়া তীব্র ঝড়ে ঝিনাইদহ সদরের গোয়ালপাড়া, ক্যাডেট কলেজ সংলগ্ন সড়ক, কালীগঞ্জে বারোবাজার, রঘুনাথপুর, কোটচাদপুরের এলাঙ্গী সহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় ও রাস্তার পাশে ভেঙে পড়ে ছোটবড় প্রায় শতাধীক গাছ। এতে সকাল ৬ টা থেকে বন্ধ হয়ে যায় ঝিনাইদহ-যশোর সড়কে যানবাহন চলাচল। এ সময় ঝড়ের কবলে পড়ে আহত হয় আরো ৪ জন। খবর পেয়ে ঝিনাইদহ, কালীগঞ্জ ও কোটচাদপুর ফায়ার সার্ভিসের ৪ টি ইউনিট ঘটনা স্থলে পৌছে প্রায় ৪ ঘন্টা চেষ্টা করে গাছ কেটে অপসারন করে। প্রায় ৪ ঘন্টা পর সকাল ১০ টা থেকে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।

উদ্ধারে অংশ নেওয়া কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শেখ মামুনুর রশিদ জানান, ঝড়ের পরপরই বিভিন্ন স্থান থেকে সড়কে গাছ ভেঙে পড়ার খবর আসে। সেসময় ঘটনা স্থলে গিয়ে গাছ কেটে রাস্তার পাশে সরিয়ে রাখি। প্রায় চার ঘন্টা কাজ শেষে সম্পুর্ণরুপে সড়কে ও গুরুত্বপুর্নস্থানে ভেঙেপড়া গাছ অপসারন করতে সক্ষম হই। এরপরই সকল মহাসড়ক ও আঞ্চলিক গুরুত্বপুর্ণ সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

কালীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রথীন্দ্রনাথ বসাক বলেন, ঝড়ে ৩৩ টি বিদ্যুতের পোল ভেঙ্গেছে। তাছাড়া ৩৩ কেভি লাইনের উপর গাছ পড়েছে আর তার ছিড়ে গেছে। সব স্থানেই মেরামতের কাজ চলছে। ঝিনাইদহ ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার রাশিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ঝড়ে কিছু স্থানে গাছ পড়ে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা কাজ করছে দ্রুত লাইন চালু করার জন্য।

ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মনিরা বেগম বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করছি। তালিকা শেষ হলে তারা যাতে সহযোগীতা পান সে ব্যাপারে মন্ত্রনালয়ে আবেদন করা হবে।

জাগো/এমআই

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ