স্লাব ভেঙে ড্রেনের মধ্যে পড়ে আছে। ফলে গভীর ড্রেন উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। এতে পথ চলায় ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। এমন দৃশ্য যশোর শহরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের। এছাড়াও নির্মাণের দীর্ঘদিন পরেও অনেক ড্রেনের ওপর এখনো স্লাব বা ঢাকনা বসানো হয়নি। এসব ড্রেনও যান ও জনসাধারণের চলাচল ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। ড্রেনের ভেঙে পড়া স্লাব বদল ও খোলা ড্রেনে ঢাকনা স্থাপনে যশোর পৌরসভার কোন উদ্যোগ নেই।
গত সাত বছরে যশোর পৌর এলাকায় বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৪০ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণ হয়েছে। এসব ড্রেনের অনেকগুলোর ওপর সুদৃশ্য ফুটপাত নির্মাণ হয়েছে। এছাড়া বাদবাকী ড্রেনের ওপর স্লাব দেয়া হয়েছে এবং বহু সংখ্যক ড্রেন এখনো ঢাকনাবিহীন। আর যেসব ড্রেনের ওপর ঢাকনা আছে সেগুলো চলাচলের জন্য ফুটপাত হিসেবে ব্যবহার করেন পথচারিরা। কিন্তু স্লাব ভেঙে ড্রেন উন্মুক্ত হয়ে পড়ায় যাতায়াত বিঘ্নের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের একটি ঘোপ জেল রোড। সড়কটির পাশে ড্রেনের ওপর স্লাবের অনেকগুলো ভেঙে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। আবার অনেক জায়গায় স্লাব ভেঙে গভীর ড্রেন উন্মুক্ত হয়ে আছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় স্থানীয়রা ড্রেনের স্লাববিহীন ও ভাঙা জায়গায় লঠির মাথায় লাল কাপড় বেধে রেখেছেন। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পাশের সড়কটিরও ড্রেনের স্লাব ভেঙে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা স্লাব ড্রেনের মধ্যে পড়ে থাকলেও বদলানোর উদ্যোগ নেই। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বহু মানুষের যাতায়াত এই সড়ক দিয়ে। নিরাপদে চলাচলের জন্য অনেকেই স্লাব দিয়ে ঢাকা ড্রেনের ওপর ফুপপাত হিসেবে ব্যবহার করেন। কিন্তু স্লাব ভেঙে পড়ায় চলাচল বিঘ্নিত ও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
এই সড়কটি দিয়ে ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজ, প্রিপারেটরি স্কুল, সেক্রেটহার্ট ও মুসলিম একাডেমি স্কুলের শিক্ষার্থীরা চলাচল করে। কিন্তু বছরের ওপর হতে চলল ড্রেনের ওপর স্লাব ভেঙে থাকায় শিক্ষার্থীরা রাস্তা দিয়ে চলাচললে বাধ্য হচ্ছে।
ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক পড়ুয়া শিক্ষার্থী ফাহমিদ হাসান ও নওশিন আক্তার বলেন, প্রধান সড়ক থেকে কলেজের দিকে মোড় নিতে হয়, তার থেকে খানিকটা দূরে ড্রেনের ওপরের অনেকগুলো স্লাব ভেঙে আছে। বছরের বেশি হতে চললো এরকম অবস্থা থাকলেও এগুলো বদলানো হচ্ছে না। যার কারণে এখান দিয়ে হাঁটাচলা করা যাচ্ছে না। ড্রেনের ওপরের এই স্লাব শিক্ষার্থীসহ সবাই হাঁটাচলার জন্য ফুটপাত হিসেবে ব্যবহার করেন। কিন্তু এখন সেটি করা যাচ্ছে না।
জন উদ্যোগ যশোরের আহবায়ক প্রকৌশলী নাজির আহমেদ বলেন, ফুটপাত যদি চলাচলের উপযোগী না থাকে তাহলে সেটা থাকা আর না থাকা সমান। যশোরের বেশির ভাগ ফুটপাত দখল থাকায় নাগরিকরা বাধ্য হয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটাচলা করেন। এতে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু এ ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষ একেবারে উদাসীন।
তিনি বলেন, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পাশের সড়কটির ড্রেনের ওপরের অনেকগুলো স্লাব ভেঙে গেছে। পৌরসভার একেবারে নাকের ডগায় এরকমটি হলেও সংশ্লিষ্টদের সেটি চোখে পড়ছে না। প্রতিষ্ঠান কার্যালয়ের একদম কাছের খবরও যদি সংশ্লিষ্টরা না রাখেন তাহলে শহরের অন্যান্য প্রান্তের খবর তারা রাখবেন কিভাবে।
তিনি বলেন, জেলরোডে ড্রেনের স্লাব ভেঙে পড়ার দৃশ্যও পৌর মেয়রের একদম নাকের ডগায়। তার বাড়ির খুব কাছাকাছি একটি স্থানে গভীর একটি ড্রেনের ওপরে স্লাব ভেঙে ড্রেনটি উন্মুক্ত হয়ে আছে। স্লাব ভেঙে গর্ত তৈরি হয়েছে। সেটিও তার নজরে পড়ছে না। নাগরিকদের চলাচললের সুন্দোবস্তের দায়িত্ব পৌরসভার। তাই অতি দ্রুত ভেঙে যাওয়া স্লাব বদল ও ক্ষতিগ্রস্ত স্লাব সংস্কার করতে হবে।
শহরের অনেক এলাকায় ড্রেন নির্মাণ হলেও দীর্ঘ দিনেও সেগুলোর ওপর ঢাকনা না দেয়ায় উন্মুক্ত অবস্থায় রয়েছে। ফলে এর পাশ দিয়ে যান ও চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে। এছাড়া ঢাকানবিহীন ড্রেনে অবাধে মশার প্রজণন চলছে। শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া, সেন্ট্রাল রোড, স্টেডিয়াম সড়ক, সরকারি এমএম কলেজের সামনেসহ আরো অনেক সড়কে ড্রেনের ওপর ঢাকনা নেই। ঘোপ কবরস্থান এলাকার বাসিন্দা আশরাফ হোসেন বলেন, এই সড়কে ড্রেনের ওপর কোনো ঢাকনা নেই। ফলে হাঁটাচলা কিম্বা সাইকেল মোটরসাইকেল চালানোর সময় একটু অসর্তক হলে নির্ঘাৎ দুর্ঘটনা ঘটবে। এমনকি প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটেও।
যশোর পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত সাত বছরে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে শহরে প্রায় ৪০ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণ হয়েছে। সিআরডিপি (সিটি রিজন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট) ও ইউজিপআইআই-৩ (তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নীতকরণ সেক্টর প্রকল্প) প্রকল্পের মাধ্যমে এই ড্রেন নির্মাণ হয়।
এসব ড্রেনের বেশির ভাগের ওপর ফুটপাত তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় স্লাব দেয়া হয়েছে। স্লাব দেয়া ড্রেনগুলো ফুটপাত হিসেবে ব্যবহার করেন নাগরিকরা। আবারো এমনও বহু ড্রেন রয়েছে যেগুলোর ওপর নির্মাণের দীর্ঘ দিন পরেও ঢাকনা বসেনি।
যশোর পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আজমল হোসেন জানান, ভেঙে পড়া ও ক্ষতিগ্রস্ত স্লাব বদল ও সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঢাকনবিহীন ড্রেনের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষন করলে বলেন, শহরের ড্রেনগুলো বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে নির্মাণ হয়েছে। এগুলো যখন নির্মাণ হয় তখন স্লাব বা ঢাকনার বিষয়ে বলা হয়েছিলো। কিন্তু ড্রেনের নকশায় ঢাকনা না থাকায় প্রকল্প কর্তৃপক্ষ নির্মাণের সময় স্লাব স্থাপন করেনি। শহরে ড্রেনের সংখ্যা অনেক। প্রত্যেকটি ড্রেনে স্লাব নির্মাণ অনেক ব্যয়বহুল। পরবর্তীতে আবারও কোন প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হলে তখন উন্মুক্ত ড্রেনের ঢাকনা তৈরির প্রস্তাবনা রাখা হবে।

