বৃষ্টিতে বোরো চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি, আশানুরুপ ফলন না হওয়ার শংকা

আরো পড়ুন

জাহিদ হাসান সোহান, চৌগাছা: একনাগাড়ে বৃষ্টির কারনে যশোরের চৌগাছার কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখনও অনেক ধান মাঠেই কেটে রাখা আছে। যে সমস্ত ধান কাটা হয়নি সেই ধান কাটা নিয়েও দেখা দিয়েছে শংসয়। ধানে চারা বের হওয়ার কারনে ফলন কমে যাওয়ার শংকায় রয়েছেন চাষিরা। এই ক্ষতি কিভাবে কাটিয়ে উঠবে সেই চিন্তায় বিভোর।

চৌগাছা উপজেলাতে এবছর বোরো ধানের ব্যাপক চাষ হয়। কৃষি অফিস জানায়, ১৮ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। ধান কাটার আগ পর্যন্ত আবাহওয়া ভাল থাকার কারনে বাম্পার ফলনের আশা করেছিল চাষিরা।

সোমবার (১৬মে) উপজেলার চাঁনপুর, কুঠিপাড়া, গরীবপুর, লস্কারপুর, কয়ারপাড়া, সিংহঝুলীসহ বেশ কিছু এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা যায় কৃষকরা মাঠের জমি থেকে কাটা ধান সড়ক বা উঁচু স্থানে এনে শুকানোর চেষ্টা করছেন। যে সমস্ত কৃষক বৃষ্টির আগে ধান কেটেছিল তাদের ধানে সব কল বের হয়েছে। আবার যাদেও ধান এখনও কাটা হয়নি জমিতে আছে বাতাসে সেই ধান পড়ে যাওয়ায় তাতেও কল বের হতে শুরু করেছে।

এ বছর বিঘা প্রতি ২৫ থেকে ৩০ মন ধান ফলনের আশা করেন চাষিরা। কিন্তু বৃষ্টির কারনে সেই ফলন ০ থেকে ১৫ মনে নেমে আসতে পারে। ধার দেনা করে যে সব কৃষক মাঠে বোরো চাষ করেন তাদের কষ্টের কোন শেষ নেই। কিভাবে মহাজনের দেনা, সার ও কীটনাশকের দোকানে দেনা শোধ করবে সেই চিন্তায় বিভোর। এ বছর ১ বিঘা বোরো ধানে কৃষকের ২০ থেকে ২৪ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে। এই ক্ষতি কি ভাবে কাটিয়ে উঠবে চাষি সেই ভেবে ঘুম খাওয়া প্রায় বন্ধ।

মাঠ থেকে ধান সড়কে আনার কাজে নিয়োজিত কৃষক আমিনুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, বাবুল আক্তার, রিপন হোসেন বলেন,আমরা প্রত্যেকে স্থানীয় মাঠে একের অধিক বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করি। ধান কাটার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ বা পোকামাকড়ের আক্রমন না থাকায় বাম্পার ফলন হয়। ঈদের আগের দিন কিছু জমির ধান কাটা হয়,বাকি ধান ঈদের পওে কাটার কথা ছিল, কিন্তু বৃষ্টিতে সব কিছুই এলোমেলো করে দিয়েছে। বৃষ্টির পানিতে ভাসা ধান বোঝা বেধে সড়কে নিয়ে আসছি। অধিকাংশ ধানেই চারা বের হয়ে গেছে। এই ধানে অর্ধেকও ভালো পাওয়া যাবেনা। পানিতে ভাসতে থাকে আর যে ধান কাটতে পারেনি সেই ধানের উপর উঠে যায় পানি। এখন কেটে রাখা ধান জমি থেকে সড়কে আনার চেষ্টা করছি, তবে অধিকাংশ ধানে কল হওয়ায় বিঘা প্রতি ১০ মণ ধান হবে কিনা সন্দেহ আছে। চাষিরা বলেন, জোন সংকট তাই পরিবারের সদস্যরা মিলে জমির পঁচা গলা ধান নিয়ে সড়কে বিছিয়ে রেখেছি। বিচেলি হওয়ার কোন সম্ভবনা নেই তবে ধান যা পাবো তার অর্ধেকই নষ্ট হয়ে যাবে। এই ক্ষতি কোন ভাবেই কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে না।

চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমরেন বিশ্বাস বলেন, বৃষ্টিতে কৃষকের বেশ ক্ষতি হয়েছে, এখন রোদ হচ্ছে তাই নিচু জমির কেটে রাখা ধান উঁচু স্থানে নিয়ে আসার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ধান মাড়াই করার পর রোদে শুকালে তেমন সমস্যা হবে না বলে তিনি মনে করেন।

জাগো/এমআই

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ