‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ শিখতে ইউরোপে যাচ্ছেন কেশবপুরের মেয়রসহ ২২ জন

আরো পড়ুন

দেশের বেশিরভাগ পৌরসভার নিজস্ব আয় না থাকায় তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-বোনাস দিতে পারে না। অন্যান্য উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চালাতেও কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগই নেই বেশিরভাগ পৌরসভায়, বর্জ্য সংগ্রহের জন্য নেই নির্ধারিত গাড়িও। অনেক পৌরসভায় ঝাড়ুদারই একমাত্র ভরসা। ফলে সেখানে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা তো দূরের কথা, সংগ্রহ করার মতো কোনো উদ্যোগ নেই। অথচ এ কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয় অভিজ্ঞতা অর্জনের নামে তিন ধাপে কমপক্ষে ৬০ থেকে ৬৫ জন যাচ্ছেন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। প্রথম ধাপে ২২ জনের একটি দল আগামী ৩০ মে থেকে ৮ জুন পর্যন্ত ১০ দিন যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ড ভ্রমণ করবে।

প্রথম ধাপের এই ২২ জনের বহরে আছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের তিন পদস্থ কর্মকর্তা, দুই প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ১৬ মেয়র ও এক পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ডে ১০ দিনের দীর্ঘ সফরে অর্জিত অভিজ্ঞতা নিজেদের পৌরসভাগুলোতে কাজে লাগানোর কথা বলা হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, এটা মূলত উৎসাহ দেয়ার জন্য ভ্রমণ। যারা বিদেশে যাবে তারা উন্নত দেশ দেখে তাদের কিছু অভিজ্ঞতা হবে, নিজ দেশের প্রতি দায়িত্ব ও প্রেম বাড়বে।

তিনি বলেন, আমাদের ৩২৮টি পৌরসভার মধ্যে সবাইকে তো বিদেশ পাঠানো সম্ভব নয়। তাই পিছিয়ে পড়া পৌরসভাগুলোকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কিছু কাজের মানদন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। তারাই এ ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের পৌরসভাগুলোতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। এর মধ্যে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়ও নেয়া হয়েছে কিছু পদক্ষেপ। কঠিন বর্জ্য মূলত সবজি বা শস্য, নির্মাণ বর্জ্য, পশু বা মানুষের হাড়সহ কিছু অংশ, কাগজ পণ্য, প্লাস্টিক, রাবার, চামড়া, ধাতু, গ্যাস, সিরামিকস, কাঠ, ঘাস, পাতা, বস্ত্র, পাট, ওষুধ ও রাসায়নিককে ধরা হয়ে থাকে। এসব কঠিন বর্জ্য উন্নতবিশ্বে কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয় তা দেখতেই সংশ্লিষ্ট মেয়র ও কর্মকর্তারা বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করবেন। ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে আরো দুটি ধাপে আরো ৪০ থেকে ৪৫ জন বিদেশ ভ্রমণে যাবে। তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়ে আছে। তবে এখনো অফিস আদেশ জারি হয়নি।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব (প্রশাসন-১) একেএম মিজানুর রহমান বলেন, তিনটি ধাপে পৌরসভার কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিদেশ সফর অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপে ২২ জনের অফিস আদেশ জারি হয়েছে। বাকি দুটি ধাপে আরো লোকজন যাবে। তবে কোন ক্যাটাগরির পৌরসভা থেকে লোকজন যাচ্ছে তা আমি বলতে পারছি না।

যারা বিদেশ যাচ্ছে : যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ড সফরে যাওয়ার তালিকায় থাকা স্থানীয় সরকার বিভাগের তিনজন হলেন যুগ্ম সচিব নুমেরী জামান, কামাল হোসেন, উপসচিব আল আমীন সরকার। তাদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুস সালাম, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন ও লাকসাম পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমীন চৌধুরী রয়েছেন।

মেয়রদের মধ্যে আছেন যশোরের কেশবপুরের রফিকুল ইসলাম, কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌরসভার মেয়র আবদুল মালেক, রংপুরের বদরগঞ্জের এহসানুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রামের রাউজানের জমির উদ্দিন পারভেজ, সীতাকুন্ডের বদিউল আলম, ফটিকছড়ির ইসমাইল হোসেন, পাবনার আটঘরিয়ার শহিদুল ইসলাম রতন, বরগুনার বেতাগীর এবিএম গোলাম কিবরিয়া, কুমিল্লার হোমনার নজরুল ইসলাম, বরিশালের বাকেরগঞ্জের লোকমান হোসেন ডাকুয়া, মাদারীপুরের খালিদ হোসাইন, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের আনোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গার মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী, জামালপুরের সরিষাবাড়ীর মনির উদ্দিন, নোয়াখালীর হাতিয়ার কেএম উবায়দুল্লাহ ও পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র জাকিয়া খাতুন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় সরকার বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও ঢাকার দুই সিটিসহ দেশের বড় সিটি করপোরেশনগুলোতে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা যায়নি। যেখানে শহরেই আধুনিক ও পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি; সেখানে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পৌরসভাগুলো কীভাবে তা করবে। কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বলতে উৎপাদিত বর্জ্য আধুনিক সব প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্য কাজে ব্যবহার উপযোগী করা। কিন্তু রাজধানী শহরেই কোনো ধরনের পৃথককরণ ছাড়াই প্রাথমিকভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাকিটা চলে যাচ্ছে নদী, খাল ও পানি নিষ্কাশন নালায়।

ওই কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকার দুই সিটির সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘ইকো টাউন’ গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছিল। যেখানে বর্জ্যরে ধরন অনুযায়ী বায়োগ্যাস, কম্পোস্ট, রিসাইকেল, কনস্ট্রাকশন বা নির্মাণ বর্জ্যরে পুনর্ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। কিন্তু তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি।

একাধিক কর্মকর্তা বলেন, যেসব পৌরসভায় কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে চায়, সেখানে নেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, দক্ষ জনবল, পরিবহন ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা। সেই সঙ্গে পরিবেশসম্মত ল্যান্ডফিলও (ভাগাড়) সেখানে। অনেক পৌরসভায় শিল্প বর্জ্য, প্লাস্টিকসহ পশু ও মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বর্জ্য উৎপাদন খুব একটা থাকে না। তাই সেসব পৌরসভায় এখনো কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়নি।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ