ভোজ্যতেলের বাজারে রীতিমতো অস্থিরতা চলছে। দাম বৃদ্ধির পরও বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি নাজুক। অনেক জায়গায়ই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটি পাওয়া যাচ্ছে না।
এমনই বাস্তবতায় প্রশাসনের তৎপরতায় প্রকাশ পাচ্ছে একের পর এক মজুতদারির ঘটনা।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর গোপন আস্তানা থেকে বেরিয়ে আসছে হাজার হাজার লিটার ভোজ্যতেল। গোপনে মজুত রাখা এসব অসাধু ব্যবসায়ী যে অপরাধ করছে, আইনের ধারায় এর কঠোর সাজার বিধান রয়েছে। অসৎ উদ্দেশ্যে অধিক পরিমাণ তেল মজুতের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনজ্ঞরা।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হাসান মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ আজিম বলেন, বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪ অনুযায়ী অসাধু মজুতদারদের বিরুদ্ধে ক্যাপিটাল (সর্বোচ্চ) শাস্তির বিধান আছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য গোপনে মজুত করা জঘন্য অপরাধ। বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হলে এসব অসাধু মজুতদারের বিরুদ্ধে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড থেকে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু দেখা যায়, এত বড় অপরাধের জন্য মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মাত্র দুই বছর সাজা কিংবা অর্থদণ্ড দিয়েই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ছেড়ে দেয়া হয়। এই সাজা এমন অপরাধের তুলনায় নগণ্য।
উচ্চ আদালতের এই আইনজীবী বলেন, সাধারণত তাৎক্ষণিক অপরাধ দৃষ্টিগোচর হলে মোবাইল কোর্ট সাজা দেবে। কিন্তু যদি দেখা যায় যে অপরাধের মাত্রা বেশি, তাহলে অধিকতর সাজার জন্য মালামাল জব্দ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মামলার জন্য কোর্টে পাঠানো উচিত। কেননা একই অপরাধে মোবাইল কোর্ট সাজা দিয়ে দিলে আদালতে আর মামলার সুযোগ থাকে না।
সম্প্রতি দেশজুড়ে ভোজ্যতেলের সংকট দেখা দেয়। এই সুযোগে তেলের মূল্য বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয় সরকার। তারপরও বাজারে পণ্যটির সংকট চলতে থাকায় টনক নড়ে সরকারের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী অভিযান পরিচালনা করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।
তাদের অভিযানে বেরিয়ে আসছে দেশের নানা স্থানে গোপনে মজুত করে রাখা লাখ লাখ লিটার ভোজ্যতেল।
অবৈধভাবে সয়াবিন তেল মজুতের অপরাধে গত ৯ মে বাগেরহাটে দুই ব্যবসায়ীকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

