কৃষকের ‘সোনালী স্বপ্ন’ ভাসছে পানির উপর!

আরো পড়ুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের ভারী বৃষ্টিতে কৃষকের কেটে রাখা ‘সোনালী স্বপ্ন’ পানির উপরে ভাসছে। অন্যদিকে আধা পাকা ধান মাটিতে ন্যুইয়ে পড়েছে। কৃষকের কষ্টের ধান শেষ মুহুর্তে ঘরে তুলতে না পারায় ক্ষেতে ভেজা ধান আর কৃষকের চোখের পানিতে একাকার।

গত সোমবার সকাল ১১টা থেকে বিকাল অবদি যশোরে বৃষ্টিপাত হয়। আবার মঙ্গলবার (১০ মে) সকালের বৃষ্টিতে মাঠে কেটে রাখা, কোথাও বেঁধে রাখা, কোথাও জালি দিয়ে রাখা ধানের ওপর দিয়ে পানির স্রোত বয়ে যাচ্ছে।

পানির নিচে ধান২

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অদিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক দীপঙ্কর দাশ জানান, সোমবার ও মঙ্গলবারে সকালের বৃষ্টিতে জেলার বেশকিছু এলাকায় কাটাধান তলিয়ে গেছে। তবে নতুন করে বৃষ্টি না হলে ক্ষতির পরিমাণ কম হবে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে ৬০ ভাগ ধান কেটে ঘরে তুলতে পেরেছেন কৃষক। ৪০ ভাগ ধান ঝুঁকিতে রয়েছে। যশোরে চলতি মৌসুমে এক লাখ ৫৮ হাজার ৮শ’ ৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে।

সদর উপজেলার ফুলবাড়ির কৃষক আকতার হোসেন জানান, তারা এখনো ১৫ ভাগ ধান ঘরে তুলতে পারেননি। দুই দিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে কাটাধান। অন্যদিকে বীরনারায়নপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’র প্রভাবে ধান ক্ষতির মুখে পড়তে পারে ভেবে তারাসহ এলাকার অনেকে আধা পাকা ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু সব চেষ্টায় ছাই ফেলেছে বৃষ্টি।

পানির নিচে ধান৩

চৌগাছার যাত্রাপুর গ্রামের কৃষক আমজাদ আলী জানান, ঝড়ের পূর্বাভাস পেয়ে তড়িঘড়ি করে ধান কেটে ঘরে তুলেছি। তবে প্রতিবেশিদের অনেকের কাটা ধান বৃষ্টির পানিতে ভাসছে। তিনি বলেন, অনেকে চোখের পানি ফেলছেন। বলছেন ধানে শ্রমিকের ঘামের দামও উঠবে না।

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক দীপঙ্কর দাশ বলেন, সব উপজেলায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র জানা যাবে দু’একদিন পর। যেকোন দুর্যোগ মোকাবিলায় চাষীদের সতর্ক থাকতে হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এখনও মাথায় হাত দেয়ার মতো ক্ষতি হয়নি। আর বৃষ্টিতে ভেজা ক্ষেতের কাটাধান ডাঙায় তুলে নিতে হবে। তাহলে ক্ষতির পরিমাণ অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

জাগো/এমআই

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ