উৎপল দে, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে আপারভদ্রা নদীর মুখের ‘ক্রসবাঁধ’ নির্মাণের ৭ দিন পরেই তা ভেঙে পড়েছে। বাঁধ দিয়ে ১৬ দিন ধরে নদীতে পলি ঢুকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলায় এখনো মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এরফলে সদ্য খনন করা নদী পলিতে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। পলি ঠেকাতে বাঁধটি দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর।
জানা গেছে, ৮০’র দশকের পর থেকে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের আপারভদ্র, হরিহর ও বুড়িভদ্রা নদী পলিতে ভরাট হয়ে মরতে শুরু করে। যার কারণে কেশবপুর শহরসহ মণিরামপুর উপজেলা অধিকাংশ এলাকায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে দেখা দিতো স্থায়ী জলাবদ্ধতা। এ সমস্যা নিরসনে উপজেলার কাশিমপুরে আপারভদ্রা নদীর মুখে প্রতিবছর সাময়িক ‘ক্রসবাঁধ’ দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে কেশবপুর শহর জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়। এরপর থেকে প্রতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে এপ্রিলের মধ্যে ওই স্থানে ‘ক্রসবাঁধ’ দেয়া এবং জুনের শেষের দিকে তা অপসারণ করার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। নদী রক্ষায় ধারাবাহিকভাবে প্রকল্পটি চলমান রয়েছে। ২০১৮ সালে ৩ বছর মেয়াদে কেশবপুরের আপারভদ্রা, হরিহর, বুড়িভদ্রা নদীসহ এর সংযোগ খালগুলো প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করা হয়। পলি ঠেকাতে প্রতি বছরের ন্যায় আপারভদ্রা নদীর মুখের ক্রসবাঁধের নির্মাণ কাজ ১৫ এপ্রিল ঠিকাদার সম্পন্ন করে। ৫/৭ দিন যেতে না যেতেই বাঁধটি ভেঙে যায়। দীর্ঘ ১৬ দিনেও পানি উন্নয়ন বোর্ড ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
কাশিমপুর গ্রামের কৃষক শামিম হোসেন বলেন, ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত সাগরের পলি নদীতে আসা শুরু হয়। ওই ঠিকাদার টেকসই পাইলিং ও পরিমান মত পলিব্যগ ব্যবহার না করায় বাঁধটি ভেঙে গেছে। দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় জনগণের দূর্ভোগ বেড়েছে।
পাউবো’র অফিস জানায়, কাশিমপুরে আপারভদ্রার মুখে ‘ক্রসবাঁধ’ দেয়ার জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয় যশোরের ঠিকাদার আনন্দ কুমারকে। তিনি ১ এপ্রিল কাজ শুরু করে ১৫ এপ্রিল শেষ করেন। জোয়ারের পানির চাপে বাঁধটি ভেঙে যায়।
ঠিকাদার আনন্দ কুমার বলেন, বাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় তিনি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। ঈদের কারণে বাঁধের নির্মাণ কাজ বন্ধ ছিল। ২/৩ দিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্সি আছাদুল্লাহ বলেন, বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঠিকাদারকে বাঁধটি দ্রুত নির্মাণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

