সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার পল্লীতে নবদম্পতিকে দাহ্য পদার্থ ছুড়ে অগ্নিদগ্ধ করার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৬ মে) রাতে তাকে কাশিপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত যুবকের নাম শেখ তুহিন হোসেন (২৪)। তিনি বড়কাশিপুর গ্রামের শেখ আব্দুল আলালের ছেলে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পাটকেলঘাটা থানার বড় কাশিপুর গ্রামে কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী এলাকায় নবদম্পতিকে এসিড জাতীয় দাহ্য পদার্থ ছুড়ে পালিয়ে যায় কিছু যুবক। এসময় আহত হোন বড়কাশিপুর গ্রামের আব্দুল হকের মেয়ে তামান্না খাতুন (২৫)। তার স্বামী ফরহাদ সরদার(৩০) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আবুল হোসেন সরদারের ছেলে। প্রথমে নবদম্পতিকে খুলনা মেডিকেল পরে রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছে। শুক্রবার সকালে তামান্না খাতুনের পিতা আব্দুল হক বাদী হয়ে পাটকেলঘাটা একটি মামলা দায়ের করেন।
আহত তামান্নার বাবা আব্দুল হক জানান, প্রায় আড়াই বছর আগে কলারোয়া উপজেলার তুলসী ডাঙ্গা গ্রামের মালেশিয়া প্রবাসী সাদ্দাম হোসেনের সাথে বিয়ে হয় মেয়ে তামান্নার। কিন্তু বছর খানেক আগে জামাতা সাদ্মাম দেশে না আসার কারণে সে সম্পর্ক ভেঙে যায়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসের ১৫ তারিখে তামান্নার সাথে সাতক্ষীরার সদর উপজেলার কবিরাজ বাড়ির আবুল হোসেন সরদারের ছেলে ফরহাদ সরদারের সাথে আবার বিয়ে হয়। সম্প্রতি ঈদের কেনাকাটা করে মেয়ে জামাতা আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে । ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তারা বাড়ির পাশের কপোতাক্ষ নদীর তীরে বসে থাকলে মেয়ের সাবেক স্বামী সাদ্দামসহ কিছু অজ্ঞাতনামা যুবক এসে তাদের ওপর এসিড জাতীয় দাহ্য পদার্থ ছুড়ে দগ্ধ করে। প্রথমে তাদের খুলনা মেডিকেলে ভর্তি করা হয় পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য শেখ হাসিনার বার্ন ইউনিটে রেফার করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান আব্দুল হক।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) কৃষ্ণ পদ সমাদ্দার জানান, এ ঘটনায় আব্দুল হক বাদী হয়ে ৬ জনসহ অজ্ঞাত নামা ৩ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে মামলার দুই নাম্বার আসামি তুহিন হোসেনকে গ্রেফতার করে শনিবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাঞ্চন কুমার রায় গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জাগো/পিএ

