দুই বছর পর করোনার বিধি-নিষেধ ছাড়া ঈদ উদযাপন করেছে যশোরবাসী। এবারের ঈদ উদযাপন ছিলো বাঁধহারা আনন্দ, উচ্ছ্বাস। কর্মব্যস্ত জীবন থেকে ছুটি মিলতেই, ঈদের এই আনন্দকে আরো একটু রং ছড়াতে পরিবার নিয়ে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ছুটে চলেছে মানুষ। ভ্রমণপিপাসুদের উপচেপড়া ভিড় ছিলো জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে।
মঙ্গলবার থেকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত যশোর বিমানবন্দর এলাকা, জেস গার্ডেন, বিনোদিয়া ফ্যামিলি পার্ক, বেনাপোলস্থল বন্দর, ভাসমান সেতু, মীর্জানগর হাম্মামখানা, ভরতের দেউল, মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি, কালেক্টরেট পার্ক, পৌর পার্কসহ বিভিন্ন দর্শনীয়স্থানে দেখা গেছে বিপুল মানুষের উপস্থিতি। ঈদের দিন সকালে বৃষ্টির কারণে বাগড়া দিলেও বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। সেই সঙ্গে দুপুর নাগাদ রোদের দেখা মেলে। ভ্রমণপিপাসুরা বেড়িয়ে পরে ঘুরতে। তবে ঈদের তৃতীয় ও চতুর্থ দিন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিলো।
জেস গার্ডেন এ পছন্দের প্রাণীদের কাছ থেকে দেখছে শিশুরা। আবার অনেকে স্মৃতি ধরে রাখতে প্রাণীদের সাথে ছবি তুলে রাখছেন। ৮ বছর বয়সী শাফাকাত নিয়ে ঘুরতে এসেছেন তার মা সুমি বেগম।
তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে গত চার ঈদ আমরা ঘরবন্দি ছিলাম। করোনাভাইরাসের ভয়ে কোথাও যেতে পারিনি ছেলেকে নিয়ে। চার ঈদ পর তাই স্বামী-সন্তান নিয়ে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ঘুরছি।
তবে ঈদের ছুটিতে যশোরের সব বিনোদন কেন্দ্রকে হার মানিয়েছে দেশের দীর্ঘতম ঝাঁপার বাওড়ে ভাসমান সেতু। নতুন সাজে প্রস্তুত ছিলো ওয়াটার বোট, নৌকা। সেখানে সব বয়সী মানুষের জনস্রোত চোখে পড়ে। ঝাঁপা গ্রামের ভাসমান এ সেতু নির্মাণের অন্যতম উদ্যোক্তা হানিফ রেজা বলেন, বিগত কয়েক ঈদের ভিড়কে হারমানাবে এবারের দর্শনার্থীদের উপস্থিতি। প্রতিদিন দুই সেতুতে প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার দর্শনার্থী আছে। শুধু তাই নয়, মানুষের এই বাড়তি চাপে রোডে প্রায় সময় যানজট লেগে থাকছে।
যশোর বিমানবন্দরে পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগের জন্য ভিড় জমেছে। ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় মুখর ছিলো বিমানবন্দর পার্ক। এই পার্কে স্থাপিত বিমান ঘুরেঘুরে দেখছেন দর্শনার্থীরা। এখানে কথা হয় বিমানবন্দরে ঘুরতে আসা সোহেল রানা ও রোজিনা বেগম দম্পতির সাথে। তারা বলেন, করোনার দুই বছর পরে প্রাণখুলে ঘুরছি। এছাড়াও দীর্ঘ দিন পরে ঈদগাহে নামাজ আদায় করেছি পরিবার বন্ধুদের সাথে। এবারের ঈদ অনেক উপভোগ করছি।

