নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের আলোচিত চরমপন্থী সদস্য প্রকাশ মল্লিক ও ইউপি সদস্য উত্তম সরকার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও কথিত চরমপন্থী সংগঠন নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা বাসুদেব সাহা ওরফে কিরণকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলার পুরাতন বাজার এলাকা থেকে বাসুদেব সাহা ওরফে কিরণকে গ্রেফতার করেছে। পরে পুলিশ তার দুই সহযোগীকে আটক ও অস্ত্র উদ্ধার করেছে।
নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা বাসুদেব সাহা ওরফে কিরণ ওরফে তপন ওরফে বাদল ওরফে মাহমুদুর রহমান (৩৯) পটুয়াখালী সদর উপজেলার পুরান বাজার এলাকার নারায়ন চন্দ্র সাহা’র ছেলে। আটক দুই সহযোগী হলো, যশোরের অভয়নগর উপজেলার রামসরা গ্রামের পঞ্চরাম মন্ডলের ছেলে কৃষ্ণপদ মন্ডল (৭০) ও নিখিল মন্ডলের ছেলে দিপঙ্কর মন্ডল (৩৩)। তাদের কাছ থেকে একটি একনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়েছে। আটককৃতরা যশোরের চাঞ্চল্যকর চরমপন্থী সদস্য প্রকাশ মল্লিক ও ইউপি সদস্য উত্তম সরকার হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে পুলিশ জানিয়েছে।
যশোর পুলিশের মুখপাত্র ডিবি ওসি রুপণ কুমার সরকার জানান, গত বছর ১৯ নভেম্বর মণিরামপুর উপজেলার মাছের ঘের থেকে প্রকাশ মল্লিক নামে এক চরমপন্থী সদস্যের লাশ পাওয়া যায়। এরপর ১০ জানুয়ারি অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের হরিশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মাঠে সুন্দলী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের নব-নির্বাচিত মেম্বার উত্তম সরকারকে গুলি করে মরদেহ ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।
মামলা দু’টি ক্লুলেস ও চাঞ্চল্যকর হওয়ায় জেলার পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার দ্রুত সময়ে রহস্য উদঘাটনের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলা দু’টি তদন্তকালে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ইতোপূর্বে ১২ জন চরমপন্থী সদস্যকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে একাধিক অবৈধ অস্ত্রগুলি উদ্ধার হয়।
তদন্তকালে পুলিশ জানতে পারে, আসামিরা কথিত চরমপন্থি সংগঠন নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির পরিচয় দিয়ে অভয়নগর ও মনিরামপুর এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়নের মেম্বার ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের ফোন করে চাঁদাবাজি করছে। চাঁদা না পেলে তারা হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত ঘটাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় তারা সুন্দলী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের নব-নির্বাচিত ইউপি সদস্য উত্তম সরকারকে হত্যা করেছে। এর আগে তাদের দলীয় সদস্য প্রকাশ মলিকে ওরফে বৃটিশকেও হত্যা করে। দু’টি হত্যাকাণ্ডের পরও কথিত চরমপন্থি সংগঠনের নেতা কিরন ওরফে বাদল ওরফে কিশোর ওরফে মাহমুদুর রহমান তপনের সন্ধান মিলছিল না।
ডিবি ওসি রুপণ কুমার সরকার আরও জানান, পরে গোয়েন্দা পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে একাধিক ছদ্মনামধারী কিরনকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে ১৯ এপ্রিল থেকে ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, পটুয়াখালী এলাকায় অভিযান পরিচালনা শুরু করে। সর্বশেষ ২২ এপ্রিল সকালে মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলার পুরাতন বাজার এলাকা থেকে চরমপন্থী নেতা কিরণকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর জানা যায় তার পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা। তাকে ডিবি অফিসে নিয়ে যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রকাশ মল্লিক ও ইউপি সদস্য উত্তম সরকার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী অভয়নগর উপজেলার রামসারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে কৃষ্ণপদ মন্ডল (৭০) ও দিপঙ্কর মন্ডলকে (৩৩) আটক এবং একটি একনলা বন্দুক উদ্ধার করেছে।
এমআই

