চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোর মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে কাজল মন্ডল। ছেলের মেডিকেলে ভর্তি ও লেখাপড়ার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান চৌগাছা উপজেলার রাণীয়ালি গ্রামের সুধাংশু কুমার মণ্ডল ও রেবা রানী মণ্ডল দম্পতি। কাজলের পরিবারের দারিদ্র্য ও তার পড়াশুনার অনিশ্চয়তার বিষয়টি জানতে পারেন চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা। তিনি শনিবার(২৩এপ্রিল) কাজল মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের মিষ্টিমুখ করিয়েছেন। একই সাথে তার পড়াশুনার খরচ বহনের ঘোষণা দিয়েছেন।
এ সময় কাজলের মা রেবা রানী মণ্ডল আপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা কাজলের মায়ের সাথে দীর্ঘ সময়ের কথোপকথনে মনোবল ও সাহস ধরে রাখতে বলেন। তিনি কাজলদের পরিবারের খোঁজ-খবর নেন এবং তার ভর্তির খরচ নিজে দেবেন বলে আশ্বস্ত করেন। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজলের লেখাপড়ার অন্যান্য সকল বিষয়ে উপজেলা ও জেলা প্রশাসন পাশে থাকবে বলে ঘোষণা দেন।
মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়া কাজল মন্ডল উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের রাণিয়ালী গ্রামের সুধাংশু কুমার মন্ডলের ছেলে। তারা দু’ভাই বোন। বড় বোন ঝিনাইদহের কেসি কলেজে অনার্স তৃতীয়বর্ষে অধ্যায়নরত।
রেবা রানী মণ্ডল জানান, তাদের সামান্য ভিটাবাড়ি টুকুই আছে। আর কোন জমি নেই। কাজলের পিতা পরের জমিতে কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। একটি পাটখড়ির দেয়ালে টিনের ছাউনি দেয়া ঝুপড়ি ঘরে তারা বসবাস করেন।
কাজল মন্ডল জানান, ২০১৯ সালে গ্রামের রাণিয়ালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পর শত অভাবের পরও যশোর সরকারি সিটি কলেজে তাকে ভর্তি করে তার পরিবার। সেখানে একটি ছোট বাসা ভাড়া নেয়া হয়। কাজলের মা রেবা রাণি শহরে ছেলেকে রান্না করে দেয়ার জন্য সেখানে থেকে গৃহকর্মীর কাজ করে ঘরভাড়া ও কোচিংয়ের খরচ যোগান দেন। অন্যদিকে বাবা সুধাংশু বাড়িতে দুই বছর একা পরের খেতে কাজ শেষে ফিরে রান্না করে খেয়েছেন এবং ঝিনাইদহের কেসি কলেজে পড়ুয়া মেয়ের খরচ যুগিয়েছেন।
সুধাংশু মন্ডল বলেন, আমার দুই সন্তানই ছোটবেলা থেকে মেধাবী হওয়ায় স্ত্রী রেবার উৎসাহে শত অভাবের মধ্যেও ওদের লেখাপড়া বাদ দিতে বলিনি। স্থানীয়রাও বিভিন্নভাবে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। গ্রামের মেম্বার (ইউপি সদস্য) গোবিন্দ কুমার কাজলের এসএসসির ফরম পূরণের সকল খরচ বহন করেছেন। ইউপি চেয়ারম্যান অবাইদুল ইসলাম সবুজ যথাসাধ্য পাশে থেকে সহযোগিতা করেছেন।
শনিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা মিষ্টি নিয়ে তার বাড়িতে গেলে কাজলের মা রেবা রানী মন্ডল বারবার আপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলছিলেন। কাজলের মা রেবা মন্ডল ইউএনওকে বলেন, অনেক কষ্ট করে এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছি। এখন আপনারা একটু সহযোগিতা করলে…. বলতে বলতে আবারও কেঁদে ফেলেন। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে সাহস দিয়ে বলেন, কোন অবস্থাতেই ভেঙে পড়বেন না। আমিসহ উপজেলা ও জেলা প্রশাসন আপনার পাশে আছে। আপনি একজন রত্নাগর্ভা মা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা বলেন, অদম্য মেধাবী কাজলের পাশে চৌগাছা উপজেলা প্রশাসন ও যশোর জেলা প্রশাসন সবসময় থাকবে। জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে কথা বলেছি। কাজলের ভর্তির টাকা আমি নিজে দেব। তার লেখাপড়ার খরচ চালানোর জন্য ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, কাজলদের জীর্ণ কুটির দেখেছি। কাজলের বাবা মা’কে সরকারি একটি বাড়ি দেয়া যায় কিনা সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।
এমআই

