বিশেষজ্ঞরা থাকেন ক্লিনিকে, যশোর সদর হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকরাই ভরসা

আরো পড়ুন

চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি নিয়ম বহির্ভূতভাবে রোগীকে রেফার্ড করাসহ মৃত ঘোষণাও করছেন তারা। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সরকারি হাসপাতালে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন না বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দায়িত্ব পালনেই স্বাচ্ছন্দ্য তাদের, এমন অভিযোগও দীর্ঘদিনের।

অভিযোগ স্বীকার করে হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. আব্দুস সামাদ গণমাধ্যমকে বলেন, খোদ হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের বন্ধু বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখাতে এসে ফিরে গেছেন। এসব বিষয়ে আলোচনার জন্য শনিবার সব বিভাগীয় প্রধানদের নিয়ে হাসপাতালে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সূত্র জানায়, যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে যশোর ছাড়াও নড়াইল, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার রোগীরা চিকিৎসা নেন। বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করেন। ভর্তি থাকেন ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী। জরুরি চিকিৎসাসেবার কারণে এ অঞ্চলের সাধারণ রোগীদের ভরসার আশ্রয়স্থল হাসপাতালটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশেষজ্ঞরা মাঝেমধ্যে ওয়ার্ড রাউন্ডে গেলেও তড়িঘড়ির কারণে রোগীরা ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না। রোগীরা হাসপাতালে সঠিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে অনেকেই সরকারি হাসপাতাল ছেড়ে ক্লিনিকে চলে যেতে বাধ্য হন।

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে হাসপাতাল চলছে ইন্টার্ন দিয়ে। সাধারণ রোগীদের সঙ্গে তারা খারাপ আচরণ করেন। তাদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পান না হাসপাতালের কর্মচারীরাও।

এ নিয়ে বচসা একটা সময় জটিল বিরোধেও রূপ নেয়। ইন্টার্ন চিকিৎসকরা চুক্তিপত্রের অঙ্গীকার না মেনে খেয়াল-খুশিমতো কাজ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ওয়ার্ডে দায়িত্বরত একজন জ্যেষ্ঠ সেবিকা জানান, নিয়ম অনুযায়ী রোগী ভর্তির পর একজন ইন্টার্ন আসবেন। তিনি রোগীর অবস্থা দেখে সহকারী রেজিস্ট্রারকে জানাবেন। সহকারী রেজিস্ট্রার রোগী দেখে অবস্থা অনুযায়ী অনুকূলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে ডাকবেন। কিন্তু এসব নিয়ম মানেন না ইন্টার্নরা।

আরেক সেবিকা জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দায়িত্ব রোস্টার করে দিয়েছেন। কিন্তু অধিকাংশরা সঠিকভাবে ওয়ার্ড রাউন্ডে আসেন না।

একাধিক রোগীর স্বজনরা জানান, দুপুরের পর থেকে পরের দিন সকাল পর্যন্ত বিশেষজ্ঞদের সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনে আসেন না।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, আমি হাসপাতালে নতুন জয়েন করেছি। এসেই ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরতা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকার অভিযোগ শুনে আসছি। আউটডোর রাউন্ডের পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পাওয়া যায় না, এটা সত্যিই ন্যক্কারজনক। অভিযোগের সত্যতা আছে বলে আমরা জরুরি সভা ডেকেছি। আজকের সভায় আমরা একটা শক্ত অবস্থানে যাবো। আশাকরি অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ