যশোর পৌর পার্কের শৃঙ্খলা ব্যবস্থা রসাতলে

আরো পড়ুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর পৌর পার্কে বেশ কিছুদিন যাবত স্কুল,কলেজের পোশাক পরিহিত অবস্থায় ছাত্র ছাত্রীদের বিচরণ লক্ষ্য করা গিয়েছে। শুধুমাত্র স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রী নয় বেড়েছে উঠতি বয়সী বখাটে যুবক ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বেপরোয়া চলাফেরা। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছিনতাই, ইভটিজিং সহ ছুরিকাঘাতের ঘটনা।

পৌর পার্কে স্কুল-কলেজের পোশাক পরিহিত অবস্থায় ঘোরাফেরা পৌর কতৃপক্ষ কতৃক নিষিদ্ধ থাকলেও তা কেবল পোস্টার বেনার ফেস্টুনেই সীমাবদ্ধ। যদিও পৌর কতৃপক্ষের দাবী পার্কে দিনের বেলার নিরাপত্তার সার্থে কমিউনিটি পুলিশ দায়িত্ব পালন করেন। এদিকে পার্কের মধ্যে অহরহ ছুরিকাঘাত, ইভটিজিং সহ নানা রকম অপরাধ সংগঠিত হওয়ায় পৌর কতৃপক্ষের নজরদারিতে অবহেলা বলে মনে করেন জনসাধারণেরা।

যশোর পৌরপার্ক1

সম্প্রতি গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যশোর পৌর পার্কে অভিযান পরিচালনা করে কিশোরী গ্যাংয়ের তিন সদস্য ঝুমঝুমপুর এলাকার আমির হোসেন মিন্টুর মেয়ে নিশি ওরফে ক্যাপ্টেন নিশি, হাসান বিশ্বাসের মেয়ে নিলা ও সদর উপজেলার তপসীডাঙা গ্রামের আব্দুল হান্নানের মেয়ে নুসরাত ইসলাম কে আটক করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। জানা যায়, এই চক্রটি বেশকিছুদিন ধরে পৌর পার্কে নিষিদ্ধ টিকটক ভিডিও তৈরি, অশ্লীল চলাফেরা এবং ছিনতাই সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছিলো।

received 1203659810445449

 

এর আগে, গত ২ ফেব্রুয়ারী যশোরে ভর্তি কোচিং করতে এসে বান্ধবী নিয়ে পার্কে ঘুরতে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে ছুরিকাঘাতে বেনাপোলের গাজীপুর গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে পারভেজ হোসেন(২০) নামে এক কলেজ ছাত্র গুরুতর আহত হয়। পার্কে বসে থাকাকালীন সময়ে বখাটেদের ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করলে কয়েকজন উঠতি বয়সী কিশোর তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

যশোর পৌর পার্কের প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি লাইট স্টাম্পে ঝুলছে সতর্কতামূলক পোস্টার ও ব্যানার ফেস্টুন। এ সকল ব্যানার ফেস্টুনে লেখা “স্কুল বা কলেজ ড্রেস পরিধান অবস্থায় পার্কের ভিতর অবস্থান নিষিদ্ধ”। এদিকে কয়েক মিটার ব্যাবধানে অবস্থিত একাধিক সিসি ক্যামেরা। সাধারণ জনগনের অভিযোগ পৌর কতৃপক্ষ কতৃক পার্কে এ সকল সতর্কতামূলক ও যান্ত্রিক নিরাপত্তা ব্যাবস্থা শুধু নামমাত্রই সীমাবদ্ধ। এর কোন সুফল পাচ্ছে না যশোরবাসী। পোস্টার থাকা সত্ত্বেও সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি স্কুল, কলেজের পোশাক পরে বেপোরোয়া চলাচল করছে ছাত্র ছাত্রীরা। কখনো কখনো পার্কের বিভিন্ন প্রান্তে এ সকল ছাত্র- ছাত্রীদের আপত্তিকরভাবে মেলামেশা করতেও দেখা যায়, দেখা যায় খোলামেলা অবস্থায় ছাত্র-ছাত্রীদের ধুমপান করতে। শুধু ছাত্র ছাত্রীরা নয় কখনো কখনো দেদারসে আপত্তিকর অবস্থায় সময় কাটায় যুবক যুবতীরাও। এমন সব পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তিতে পড়তে হয় পার্কে অবসর সময় কাটাতে আসা সূশীল সমাজের মানুষ এবং বয়োবৃদ্ধদের। সম্প্রতি সময়ে পার্কের মধ্যে কিশোর ও কিশোরী গ্যাংয়ের বিচরনও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে ইভটিজিং, ছিনতাই, সহ ছুরিকাঘাতের মতো হতাহতের ঘটনাও। কতৃপক্ষের যথাযথ নজরদারি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না থাকায় পার্কের আইন শৃঙ্খলা এমন রসাতলে গিয়েছে বলে দাবী জনসাধারণের।

পার্কে জগিং করতে আসা, স্টেডিয়ামপাড়ার বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, আমি এর আগে ঢাকাতে থাকতে বিভিন্ন পার্কে ঘুরে দেখেছি খুব শৃঙ্খলা থাকে এবং সিসি ক্যামেরা তো থাকেই তার সাথে পার্ক কতৃপক্ষের নজরদারি টহল থাকে। কিন্তু আমাদের যশোর পৌর পার্ক আধুনিকায়ন হলেও পার্কের ভেতরের শৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিকায়ম হয়নি।

মটর পার্টস্ ব্যবসায়ী ইদ্রিস মাজিদ মোল্লা বলেন, আমি প্রতিদিন বিকালে পার্কে জগিং করতে আসি। এখানে জগিং করার পথে দেখি পার্কের মধ্যে যে সকল বেঞ্চ বা বসার জায়গা রয়েছে সেখানে উঠতি বয়সী ছেলে মেয়েদের আপত্তিকর অবস্থায় সময় কাটাতে দেখা যায়। যা আমরা পার্কের মধ্যে দিয়ে চলাফেরা করার সময় আমাদের কাছে লজ্জাজনক হলেও তাদের যেন লজ্জাই লাগে না।

পোস্ট অফিস পাড়ার রেহেনা আক্তার নামে এক গৃহবধূ বলেন, আমরা সপরিবারে মাঝেমধ্যে পার্কে আসি বিনোদনময় সময় কাটাতে। এখানে এসে দেখি স্কুল, কলেজের ছাত্র ছাত্রীরাও ড্রেস পরে ঘোরাঘুরি করে। পোস্টার ব্যানারে এ বিষয়ে সতর্কতা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করতে কোন ব্যব্স্থা নিতে দেখা যায় না কতৃপক্ষের।

এ বিষয়ে যশোর পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন বলেন, পৌর পার্কে দিনের বেলায় কমিউনিটি পুলিশ দায়িত্বে থাকে। তাছাড়া স্কুল, কলেজ পোশাক পরিহিত অবস্থায় পার্কের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের অবস্থান পৌর কতৃপক্ষ কতৃক নিষিদ্ধ করা আছে। তবে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট স্কুল ও কলেজ কতৃপক্ষেরও সচেতন হওয়া দরকার। এবং সন্ধ্যার পর থেকে পার্কে পুলিশ টহল দেয়।

পৌর পার্কের মধ্যে কোন রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যাতে সংগঠিত না হতে পারে এ বিষয়ে খুব শীঘ্রই পৌর কতৃপক্ষ কতৃক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জাগো/এমআই

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ