আওয়ামী লীগে বাড়ছে নারী নেতৃত্ব

আরো পড়ুন

আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কাউন্সিল অধিবেশনে কারা নেতৃত্বে আসবে, কে সাধারণ সম্পাদক হবে ইত্যাদি নানামুখী আলাপ-আলোচনা চলছে। তবে গত কয়েক বছরের কাউন্সিল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ আস্তে আস্তেনারী নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাচ্ছে। প্রত্যেকবার নারীদের সংখ্যা বাড়ছে কেন্দ্রীয় কমিটিতে। আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ১৯৮১ সাল থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতিত্ব করছেন। এটি উপমহাদেশে শুধু নয় বিশ্বের রাজনীতি একটি বিরল ঘটনা এবং তার হাত ধরেই নারীদের ক্ষমতায়ন হচ্ছে আওয়ামী লীগ দলের মধ্যে। একদিকে যেমন সরকারের নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে অন্যদিকে দলেও নারী নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাচ্ছেন শেখ হাসিনা। এবার কাউন্সিল নারী নেতৃত্বের প্রকাশ, প্রসার ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবশ্য ৭৫ পরবর্তী সময়ে নারী নেতৃত্বের হাতেই আওয়ামী লীগ পুনরুজ্জীবিত হয়েছিলো, শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগ সভাপতি করার আগে আওয়ামী লীগ ছিন্নভিন্ন একটি রাজনৈতিক দল ছিলো। এ সময় জোহরা তাজউদ্দীন এবং বেগম সাজেদা চৌধুরীর ভূমিকা ছিলো অসাধারণ। বর্তমানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামে তিনজন নারী সদস্য রয়েছেন। ২০১৯ সালের কাউন্সিলে চারজন প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি ছাড়াও অন্য যে তিনজন প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন তাদের মধ্যে সাহারা খাতুন ইতিমধ্যে মারা গেছেন। বেগম সাজেদা চৌধুরী এবং মতিয়া চৌধুরী প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

আওয়ামী লীগে গত কাউন্সিলে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন আনা হয়েছিলো সম্পাদকমন্ডলীতে এবং সেখানে নারীদের একটা বড় ধরনের প্রাধান্য লক্ষ্য করা গেছে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ডা. দীপু মনি দায়িত্ব পেয়েছিলেন, অর্থ পরিকল্পনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন ওয়াসিকা আয়েশা, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে মেহের আফরোজ চুমকি, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা। এতগুলো সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হওয়াটা আওয়ামী লীগের জন্য বড় ধরনের ঘটনা ছিলো এবং এবার এই সম্পাদক মণ্ডলীতে নারীদের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে বিভিন্ন নেতাকর্মীরা মনে করছেন। এছাড়াও গতবার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পদেও আট জন নারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিলো। এর মধ্যে ছিলেন বেগম আখতার জাহান, অধ্যাপক মেরিনা জাহান, পারভিন জামান কল্পনা, হোসনে আরা লুতফা ডালিয়া, সফুরা বেগম রুমি, সানজিদা খানম, মারুফা আক্তার পপি এবং গ্লোরিয়া সরকার ঝর্ণা। এর ফলে নারীদের একটি ক্ষমতায়ন এবং রাজনীতিতে নারীদের অগ্রগতির একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।

এছাড়াও উপদেষ্টামণ্ডলীতে নারীর সংখ্যা ছিলো দুজন। এরা হলেন ড. হামিদা বানু এবং সুলতানা শফি। ধারণা করা হচ্ছে যে, এবার কাউন্সিলের নারীদের উপস্থিতি আরো বাড়বে কারণ কেন্দ্রীয় কমিটির বাইরেও আওয়ামী লীগের ক্ষমতাবলে নারীদের ব্যাপ্তি বেড়েছে। বর্তমান জাতীয় সংসদের স্পিকার নারী যদিও তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নন কিন্তু তারপরও ক্ষমতাবলে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি। এছাড়াও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য না হলেও তিনি প্রভাবশালী। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে নাই, সরকারেও নাই এরকম বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী নারী রয়েছেন। যাদের মধ্যে তারানা হালিম অন্যতম। এছাড়াও সারা দেশে নারীরা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অনেক বেশি সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন বলে দেখা যায়। বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে যে, শেখ হাসিনার হাত ধরেই নারীরা রাজনীতিতে আগ্রহী হচ্ছেন এবং উৎসাহী হচ্ছেন এবং সেই প্রেক্ষাপটে নারীদের ক্ষমতায়ন বাড়ছে আওয়ামী লীগে। আগামী কাউন্সিলে হয়ত তার প্রতিফলন আরো ভালোভাবে লক্ষ্য করা যাবে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ