রমজানের প্রথম দিনে যশোরে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যে মূল্যের উর্ধগতী

আরো পড়ুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: রমজানের প্রথম দিনে যশোরে বৃদ্ধি পেয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যে। ফলে মধ্যেবিত্ত ও অসহায়দের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে যাচ্ছে রমজানে ইফতার পন্য সামগ্রীসহ সকল প্রকার দ্রব্য। যদিও জেলা শাখার ভোক্তা অধিদপ্তরের দাবী নিত্য পন্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে অভিযান ও বাজার মনিটরিং অব্যহত আছে। এবং রমজান মাসে প্রতিদিন অভিযান চলবে।এদিকে জেলার সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে রশিদ ও মূল্য তালিকা বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

গতকাল শনিবার যশোর বড় বাজার ঘুরে দেখা যায়, ইফতারের ব্যবহৃত পন্যের মূল্য গত এক সপ্তাহের ব্যাবধানে বৃদ্ধি পেয়েছে। বেসন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৯০-১০০ টাকা, সয়াবিন তেল সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির নির্দেশ থাকলেও খোলা সয়াবিন তেল লিটার প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮৫ টাকায় এবং বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ১৬০ টাকা। বিভিন্ন জাতের খেজুরের সমাগমে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে ইফতারে অত্যাবশ্যকীয় ফল খেজুরের বাজার। প্রতি কেজি খেজুর (বিভিন্ন প্রকারের) বিক্রি হচ্ছে ২২০-৩০০ টাকা দরে। আপেল প্রতি কেজি ২০০ টাকা, আঙুর প্রতি কেজি ২০০, বেদানা প্রতি কেজি ২০০, মালটা প্রতি কেজি ৭০, ছোলা ৭০-৮০, চিনি ৮৫-৯০ টাকা, এবং চাল প্রতি কেজি ৪৫-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে গরু এবং খাসির মাংসের দাম, কমে নেই লেয়ার ও ব্রয়লার মুরগীও। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকায়, খাসির মাংস প্রতি কেজি ৯০০-৯৫০ টাকায়, লেয়ার মুরগী প্রতি কেজি ২৮০ এবং ব্রয়লার মূরগীর দাম ওঠা নামা করলেও গতকাল শহরের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতি কেজি ১৪০- ১৭০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।

দাম শিতিল নেই কাঁচাবাজারেও। বেগুন প্রতি কেজি ৭০ টাকা, লেবু প্রতি হালি ৩০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ২০ টাকা, পেয়াজ প্রতি কেজি ৩০ টাকা, রসুন প্রতি কেজি ৬০-৭০ টাকা, আলু প্রতি কেজি ২০ টাকা, মরিচ প্রতি কেজি ১০০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ৪০, শসা প্রতি কেজি ৬০ টাকা।

সবজি বিক্রেতা আব্দুল হাই বলেন, আমাদের তো কোন উপায় নেই। আমরা আড়ত থেকে যে দামে কিনছি তার থেকে লাভ্যংশ হিসাব করে বিক্রি করছি। এখন আমাদের লাভ তো করতে হবে। তবে কেউ কেউ ইচ্ছাকৃত দাম বৃদ্ধি করার পায়তারা করে এটা সত্যি।

বিরামপুর এলাকার বিজয় বিশ্বাস বলেন, প্রতিদিন টেলিভিশন, পেপারে দেখি দ্রব্যমূল্যের বাজার সহনীয়। কিন্তু যারা এ কথা গুলো বলে আমার মনে হয় তারা কোনদিন বাজারের মাটিতে পা রাখেনি। সারা বাজার জুড়ে তেল বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা বেশি দরে। কই এখন তো কোন অভিযানের দেখা পাচ্ছি না। তা বাদে মূল্য তালিকাও সব দোকানে নেই।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কাঠেরপোল এলাকার এক মাংস বিক্রেতা বলেন, গরুর মাংসের দাম গত কয়েক সপ্তাহ আগে ৫০০-৫৫০ করে চলেছে। এখন হুট করে একটা চক্র ৬৫০ টাকা করে বিক্রি করছে। আমরাও সেই তালে বিক্রি করছি। আমাদেরও তো কিনতে হচ্ছে তাদের কাছ থেকে বেশি দামে। তারা তো গরু কেনার দাম বেশি এই একটাই কারন দেখাচ্ছে।

যশোর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিন বলেন, শনিবার আমরা ব্যবসায়ীদের সতর্ক করার লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করেছি। এ সময় বড়বাজারের তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মূল্য তালিকা না থাকায় সাড়ে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে মূল্য তালিকা ও রশিদ বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রমজান মাস জুড়ে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জাগো/এমআই

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ