কারাগারে থাকা বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামী লীগের নেতা খান হাবিবুর রহমানের ১৫ দিনের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার সকালে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতের বিচারক জেলা জজ রবিউল ইসলাম শুনানি শেষে চিকিৎসার জন্য তার জামিন মঞ্জুর করেন।
প্রায় দেড় মাস কারাগারে থাকার পর পৌর মেয়র জামিন পেলেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা পৃথক দুটি অর্থ আত্মসাতের মামলায় গত ১৬ ফেব্রুয়ারি পৌর মেয়র খান হাবিবুর রহমান ও পৌরসভার সাবেক সচিব মোহাম্মদ রেজাউল করিম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে বিচারক তা নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। খান হাবিবুর রহমান বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক। দুর্নীতির মামলার আরেক আসামি পৌরসভার সাবেক সচিব মোহাম্মদ রেজাউল করিম বাগেরহাট জেলা কারাগারে।
আসামি পক্ষের আইনজীবী আজাদ ফিরোজ বলেন, চিকিৎসার জন্য মেয়রকে ১৫ দিনের জামিন দিয়েছেন আদালত।
২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর দুদকের সমন্বিত খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (এডি) তরুণ কান্তি ঘোষ বাদী হয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে খান হাবিবুর রহমান, রেজাউল করিমসহ পৌরসভার ১৮ কর্মচারীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেন।
দুদকের আইনজীবী মিলন কুমার ব্যানার্জি বলেন, আজ সকালে মেয়রের আইনজীবীরা আদালতে হাজির হয়ে তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কথা জানান। বিচারক আইনজীবীদের কাছ থেকে অসুস্থতার ডাক্তারি সনদ দেখে (মানবিক কারণে) মেয়রের সুচিকিৎসার জন্য ১৫ দিনের জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ কোনো নিয়মনীতি প্রতিপালন না করে অবৈধভাবে মেয়র খান হাবিবুর রহমান ১৭ জনকে পৌরসভার বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিয়ে ১ কোটি ২৬ লাখ ৮৮ হাজার ৫৩ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় পৌরসভার উন্নয়নের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডে দুই কোটি টাকা জমা করে। এই টাকা আবাহনী ক্লাব ও ডায়াবেটিস হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ৫০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়। মেয়র খান হাবিবুর রহমান ও তৎকালীন সচিব মোহাম্মদ রেজাউল করিম ভবন নির্মাণ না করে যোগসাজশে ব্যাংক থেকে এক কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।

