নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর শহরে বিভিন্ন পাইকারী ও খুচরা মুদিখানা দোকানে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল সরকার নির্ধারিত মূল্য নির্দেশনা অমান্য করে বিভিন্ন দামে বিক্রি করছে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা। যদিও ভোক্তা অধিদফতর বলছে, মেমো বা রশিদ ছাড়া তেল বিক্রয় আইনত অপরাধ। রশিদ ছাড়া যে কোনো দোকান থেকে তেল ক্রয় করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং বেশি দামে তেল বিক্রি করলে তৎক্ষনাৎ জরুরী নাম্বারে কল করে অভিযোগ জানাতে হবে। তবুও যশোর শহরের বিভিন্ন অলিতে গলিতে বড় বড় মুদিখানা দোকানে তেলের লিটার প্রতি এমন ভিন্ন ভিন্ন দাম দেখে জনমনে জেগেছে নানা প্রশ্ন। কম দামে তেল কেনার আসায় শহরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত তেলের বোতল নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে নিম্ন মধ্যেবিত্ত পরিবারের মানুষেরা। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কতৃক সয়াবিন তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার বোতল জাত তেল ১৬৮ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৪৮ টাকা।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মোড় সংলগ্ন কুন্ডু ওয়েল মিল, মিরাপুর ওয়েল মিল ও বিমান অফিস সংলগ্ন বেগম মিলস্ মুদিখানা দোকানে খোলা তেল ১৫৫ থেকে ১৮৩ টাকা বিভিন্ন সময়ে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি করা হচ্ছে। তেল বিক্রি ক্ষেত্রে দেয়া হচ্ছে না প্রাতিষ্ঠানিক মেমো বা রশিদ। সাদা কাগজে নামমাত্র মূল্য বসিয়ে ক্রেতাকে বোকা বানিয়ে তেল বিক্রির আদলে উল্টো গরীব অসহায়ের পকেট কাটছে অসাধু এসকল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান।
সরজমিনে গতকাল সোমবার (১৪ মার্চ) দুপুরে ক্রেতা সেজে কুন্ডু ওয়েল মিলস্’এ গেলে দেখা যায়, সেখানে খোলা সয়াবিন তেলের প্রতি লিটার বিক্রি করা হচ্ছে ১৬৮ টাকায়। এদিকে তেল কেনার সময় মেমো বা রশিদ চাইলে মেমো নেই বলে সাদা কাগজে নামমাত্র মূল্য লিখে ধরিয়ে দেয়া হয়।
অতপর সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে স্লিপ না দেয়ার কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্যাশে বসা এক যুবক বলেন, আমরা অনেক আগে তেল কিনেছি বেশি দাম দিয়ে। এখন সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করলে আমাদের চালান ধরে লস হয়ে যাবে। এদিকে তো তেল না বিক্রি করে রেখে দিলেও তো প্রশাসন জেল জরিমানা করছে।
একইভাবে বেগম মিলস্এ গিয়ে দেখা যায় সেখানে কখনো সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায় আবার কখনো বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ টাকায়। ফলে দামের এমন ওঠানামা নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এ সকল মুদি দোকান থেকে নিত্য সদাই-পাতি ক্রয় করা ক্রেতাদের মাঝে। সেখানেও তেল বিক্রি করতে ক্রেতাকে দেয়া হচ্ছে না প্রাতিষ্ঠানিক মেমো বা রশিদ। রশিদ ছাড়া তেল না কিনলে ফিরে যেতে হচ্ছে ক্রেতাকে। তবে শিক্ষিত সচেতন লোকেদের প্রশ্নের সম্মুখীন হলে কখনো কখনো কথা-কাটাকাটি হতেও দেখা গিয়েছে।
একই ভাবে জানা যায়, শহরের রেলগেট, বড় বাজার, স্টেশন মার্কেট, চুয়াডাঙা বাসস্ট্যান্ডসহ শহরের বেশ কয়েকটি ঘনবসতি এলাকায় মুদি দোকানে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে পাইকারী ও খুচরা সয়াবিন তেল।
বেগম মিলস্ এর ক্রেতা আয়শা বানু নামে এক মেসের রাধুনি বলেন, একেক জায়গায় তেলের একেক রকম দাম শুনছি। সকালে বিকালে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম দাম। আমরা কাজ করে কষ্ট করে উপার্জন করি তাই কোথা থেকে তেল একটু কমে কেনা যায় এজন্য কয়েকটি দোকান ঘুরাঘুরি করছি।
খয়েরতলা এলাকার রিকশা চালক মিজান বলেন, গত তিন দিন আগে ১ লিটার তেল একবারে কিনেছিলাম। তাই দিয়েই ৪ জনের সংসারে আজ চারদিন রান্না চালাচ্ছি। তেলের দাম বেশি নিলে আমাদের আর কি করার আছে? ওই সরকারি নাম্বারে কল দিয়ে অভিযোগ করা কি আমরা বুঝি?।
কাজীপাড়া এলাকার গৃহীনী মমতাজ বলেন, আমরা দোকান থেকে দশ টাকা বিশ টাকার করে তেল কিনে খাই। হঠৎ এমন দাম হলে বিনা তেলে সিদ্ধ করে খাওয়া ছাড়াতো আর উপায় দেখছি না।
এ ব্যাপারে যশোরের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিব বলেন, কোনো বিক্রেতা রশিদ ছাড়া তেল বিক্রি করতে পারবে না। যদি করে এটা আইনত অপরাধ। আমরা এ সকল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি এবং নিচ্ছি। আমরা এর আগে বেশ কয়েকটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে আমাদের এডিএম স্যারকে সাথে করে নিয়ে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছি। ক্রেতারা যদি হটলাইন নম্বরে কল করে অভিযোগ দেয় সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে আরোসুবিধা হয়।

