সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: পরকীয়ার সন্দেহ নিয়ে সাতক্ষীরার পল্লীতে একই পরিবারে ৪ জনকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে জামাতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জামতা দেবাশিষ ঢালীকে (৩৭) আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (১২মার্চ) দিবাগত রাতে সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা গাছা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। তাৎক্ষনিক আহতদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হল শশুর পঞ্চরাম বাছাড়, দাদা শশুর ভোলা নাথ বাছাড়, শাশুড়ি তপতি বাছাড়, কাকা বৈদ্যনাধ বাছাড়। আহতদের মধ্যে পঞ্চরাম বাছাড়ের অবস্তা আশঙ্কজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য পংকজ রায় জানায়, বছর দশেক আগে গাছা গ্রামের পঞ্চরাম বাছাড়ের মেয়ে পুষ্প রানী বাছাড়ের সাথে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার খয়রাবাদ গ্রামের জগদীশ ঢালীর ছেলে দেবাশিষ ঢালীর বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের একটি ৭ বছরে মেয়ে সন্তান আছে। বিয়ের পর থেকে পরকীয়ার সন্দেহ নিয়ে পুষ্পরানীর ওপর অত্যাচার করত স্বামী দেবাশিষ। এনিয়ে শালিশ দরবার বসেছে বহু বার। কিন্তু জামাই কোন কথাই না শুনে অত্যাচার চালিয়ে আসত। এই অত্যাচার সইতে না পেরে প্রায় এক মাস আগে মেয়ে পুষ্প বাবার বাড়িতে আসে। শনিবার গভীর রাতে হঠাৎ জামাতা দেবাশিষ শশুর বাড়িতে এসে দরজাটি ধাক্কা দিকে থাকে। এসময় শশুর দরজা খুললে তাকে দা দিয়ে এলোপতাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় তার শাশুড়ি সহ পরিবাবের লোকজন বাধা দেওয়ার জন্য এগিয়ে আসলে তাদের কুপিয়ে জখম করে জামাই। প্রতিবেশী কেশব বাছাড় জানায়, রাত আড়াইটার দিকে জামাই শশুর বাড়িতে এসে দা দিয়ে পরিবারে লোকদের এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।এসময় চিৎকার করলে স্থানীয়রা এসে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে দেবাশিষকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আহতদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে এলাকাবাসী।
এ ঘটনায় পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাঞ্চন রায় জানান, দেবাশিষ নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। রবিবার (১৩মার্চ) দুপুরে বৈদ্যনাথ বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দ্বায়ের করেছেন। মামলাটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কিশোর কুমার/এমআই

