ঢাকা অফিস : ঢাকার সাভারে বকেয়া বাড়ি ভাড়ার জন্য জাতীয় নারী জুডো দলের এক খেলোয়ারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৮ মার্চ) রাতে সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া মোল্লা বাড়ি এলাকায় এই মারধরের ঘটনা ঘটে। বুধবার (৯ মার্চ) সকালে আশুলিয়া থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তানিম আহমেদ বিষয়টি জানিয়েছেন।
আহত সুমাইয়া আক্তার বাংলাদেশ জুডো ফেডারেশনের জাতীয় দলের খেলোয়াড়। তিনি ২০১৯ সালে সাউথ এশিয়ান গেমসে স্বর্ণ পদক জিতেছেন।
সুমাইয়া আক্তারের গ্রামের বাড়ি শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানার সমুরচুরা গ্রামে। তার বাবার নাম মোন্তাজ আলী। তিনি ওই এলাকার শফিকুল ইসলামের বাড়িতে পরিবারসহ ভাড়া থাকেন।
ভুক্তভোগী সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ জুডো ফেডারেশনের জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড়। সামনে আমার এসএসসি পরীক্ষা। আমার বাবা, মা ও ভাই জামগড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তবে আমি এখানে থাকি না, ন্যাশনাল ফেডারেশনেই থাকি। দুই-তিন দিন হলো এসেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাতে আমি বাসায় পড়ছিলাম। এসময় বাড়িওয়ালার স্ত্রী এসে বকেয়া বাড়ি ভাড়ার জন্য চিল্লাচিল্লি করতে থাকে। দুই-তিন মাসের বকেয়া ভাড়া পেতেন তারা। তখন আমি পাওনা টাকা দিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেই। কিন্তু তাও তিনি মানতে চাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে আমার সঙ্গে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে উনি (বাড়িওয়ালার স্ত্রী) আমাকে থাপ্পর দেন। আমিও তখন তাকে পাল্টা থাপ্পর দেই। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তার স্বামী শফিকুল ও ছেলে হৃদয়কে ডেকে নিয়ে আসলে তারা সবাই মিলে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। আমার মা বাধা দিতে গেলে তার গায়েও হাত তোলে তারা। এ সময় লোহার পাইপ জাতীয় কিছু একটা দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করে। পরে আহত অবস্থায় থানায় গেলে পুলিশ আমাকে চিকিৎসা শেষে যাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাড়ির মালিক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাড়ির নিচতলায় ৬ হাজার টাকা ভাড়ায় দুই রুমের ফ্ল্যাট নিয়ে থাকে তারা। ৪০ হাজার টাকা বাসা ভাড়া পাওনা। তিন মাস আগে তারা আমাকে বাসা ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে এবং গত মাসে আমাকে ৬ হাজার টাকা ভাড়া দিছে। কিন্তু এই মাসেও বাসা ছাড়েনি। এদিকে, আমি আরেকজনের কাছে ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে দিয়েছি। এই জন্য আমার স্ত্রী রাতে তাদের বাসা ছাড়ার নোটিশ দিতে গিয়েছিলো। তখন কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে তার মেয়ে আমার স্ত্রীকে মেরেছে। আমার স্ত্রী অসুস্থ আর ওই মেয়ে ক্যারাটে জানে। আপনাদের বিশ্বাস না হলে বাসার অন্য ভাড়াটিয়াদের জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন।’
তবে সুমাইয়া কিভাবে রক্তাক্ত হলো এমন প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, ‘হয়ত ঘরের মধ্যে খাট, আলমারি এমন কিছুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে ব্যাথা পেয়েছে।’
এসআই তানিম আহমেদ জানান, রাতে এক নারী রক্তাক্ত অবস্থায় থানায় এসেছিলেন। তাকে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা শেষে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

