অবহেলিত ভাষা সৈনিক, মৃত্যুর পূর্বে চান রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

আরো পড়ুন

বগুড়া প্রতিনিধিঃ “মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা” এই বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিজের জান বাজি রেখে যে সব বীর বাঙালী ৫২-এর ভাষা আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন তাদেরই একজন আজিজার রহমান।

ভাষা আন্দোলনে যার ছিল সক্রিয় অংশগ্রহণ। ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ আন্দোলনের পূর্বপাকিস্থান মুসলিম ছাত্রলীগ গঠন, যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন এর পিছনেও অসামান্য অবদান রেখেছেন ছাত্রনেতা আজিজার রহমান। সে সময় তিনি একাধিক বার জেল খেটেছেন। রাষ্ট্রিয় ভাবে স্বীকৃতি না মেলায় ভাষা সংগ্রামের ত্যাগী এই সৈনিকের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পাশাপাশি বিভিন্ন ভাবে তার স্মৃতি চারণের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার ও এলাকাবাসি।

তার জন্ম স্থান বগুড়ার আক্কেলপুর উপজেলার চাকতাইল গ্রামে হলেও বৈবাহিক সূত্রে (ঘরজামাই হিসেবে) বসবাস করেন ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর গ্রামে। এলাকাবাসী বলেন, এমন গুনীজনকে সরকারের উচিৎ রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি প্রদান করা, না হলে তার অবদানের প্রতি অবিচার করা হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই জাগো বাংলাদেশের প্রতিনিধিকে বলেন, আজিজার রহমান ৫২-এর ভাষা সৈনিক এবং ৭১-এর মুক্তি যুদ্ধের এক জন অন্যতম সংগঠক ছিলেন। তার রাষ্ট্রীয় ভাবে কোন স্বীকৃতি মেলেনি এবং সরকারী কোন সুযোগ সুবিধাও মেলেনি।

২০১৬ সালে ক্ষেতলাল সঙ্গীতালয় নামে একটি স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন ভাষা সৈনিক আজিজার রহমানকে সম্মাননা পদক প্রদান করেন। তার পর থেকে স্থানীয় প্রসাশনসহ বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন সময় সম্মাননা স্মারক ও দিয়েছেন, তবে রাষ্ট্রীয় ভাবে মেলেনি কোন স্বীকৃতি। মেলেনি কোন সুযোগ সুবিধা। ভাষা সৈনিক আজিজার রহমান এর বয়স ৯৪ বছর, শারিরিক ভাবে সে অসুস্থ্য, তার অসুস্থতার কথা জেনে ২১শে ফেব্রুয়ারী ২০২২ ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইশতিয়াক আহমেদ তার বাসায় গিয়ে হাজির, সাথে নিয়ে গেছেন তার জন্য উপহার ও পথ্য সামগ্রী। তিনি ভাষা সৈনিক এর জন্য সরকারী সুযোগ সুবিধার আস্বাস ও দেন। এ সময় ভাষা সৈনিক আজিজার রহমান এর স্ত্রী দিলরুবা বেগম আক্ষেপ করে জাগো বাংলাদেশকে বলেন আমার স্বামীকে এখন পর্যন্ত জাতীয় ভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। আমার স্বামী দেশের জন্য যা করেছে তার তুলনায় কিছুই পায়নি। আমার স্বামী শারিরিক ভাবে অসুস্থ্য, সামর্থ্য না থাকায় তার উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছিনা। এখন পর্যন্ত তার একটা বয়স্ক ভাতাও হয়নি। আমি তেমন কিছু চাই না, আমি চাই সরকার যেন আমার স্বামীকে রাষ্ট্রীয় ভাবে স্বীকৃতি প্রদান করে ভাষা সৈনিক ও ভাষা আন্দোলনের কথা ভবিষৎ প্রজন্মের কাছে সঠিক ভাবে তুলে ধরে। যেভাবে সম্মানিত করেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের। যেভাবে তুলে ধরেছেন ৭১রের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। ভাষাসৈনিক আজিজারের মেয়ে রিতা আক্তারের দাবি বর্তমান সরকার স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীতে আমার বাবা ভাষাসৈনিক আজিজার রহমাকে জাতীয় ভাবে স্বীকৃতি প্রদান করবেন বলে আমি আশাবাদী।

মোস্তাকিম বিল্লাহ/এমআই

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ