ডেস্ক রিপোর্ট: যশোরের চৌগাছাকে দ্রুত শতভাগ করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে এবার গ্রামে গ্রামে গিয়ে এনআইডি ও জন্ম নিবন্ধন না থাকা ব্যক্তিদেরও ভ্যাকসিন দেয়া হবে। এক্ষেত্রে ১৮ বছরের উর্দ্ধের যে কেউ টিকা নিতে পারবেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন্নাহার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, সোমবার (১৭ জানুয়ারি) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে টিকা কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র এমন কি যাদের জন্মনিবন্ধন কার্ডও নেই এমন ১৮ বছর বয়সী নারী বা পুরুষ টিকা কেন্দ্রে আসলে তাদেরও টিকা দেয়া হবে। সভায় আরো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে আগামী শনিবার উপজেলার হাকিমপুর এবং পরের মঙ্গলবার নারায়নপুর ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে গিয়ে টিকা দেয়া হবে।
সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের ৯ ওয়ার্ডের এক নম্বর ওয়ার্ডে নগরবর্ণি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুই নম্বর ওয়ার্ডের বর্ণি দাখিল মাদরাসা, তিন নম্বর ওয়ার্ডে পুড়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চার নম্বর ওয়ার্ডে মাকাপুর (বল্লভপুর) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সুখপুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে বর্ণি-রামকৃষ্ণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ছয় নম্বর ওয়ার্ডে রাজাপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাত নম্বর ওয়ার্ডে আন্দুলিয়া দাখিল মাদরাসা ও আন্দুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আট নম্বর ওয়ার্ডে দক্ষিণ বল্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আসিংড়ি পুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইন্দরপুর মাদরাসায় করোনার টিকা দেয়া হবে।
গ্রামে গ্রামে টিকা দেয়ার জন্য সকল ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
রবিবার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুখপুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে ইউপি চেয়ারম্যান, সাধারণ ও সংরক্ষিত ইউপি সদস্য, সকল মসজিদের ইমাম এবং বিভিন্ন বিদ্যালয় ও মাদরাসার প্রধানদের সাথে আলোচনা করে মসজিদের মাইক ছাড়াও স্থানীয় মাইক এবং সবার মাধ্যমে ঘরে ঘরে প্রচারণার ব্যবস্থা করেছেন বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সুখপুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন্নাহার বলেন, টিকা নেয়ার হার আশংকাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। প্রথম ডোজের থেকে খারাপ অবস্থা ২য় ও বুস্টার ডোজের। বারবার ক্ষুদে বার্তা দেয়া হলেও কাঙ্খিত হারে টিকা নিতে আসছেন না মানুষ। এ কারণে আজ থেকে প্রতি শনি ও মঙ্গলবার একটি করে ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে গিয়ে টিকা দেয়া হবে। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম, শিক্ষকসহ নানা শ্রেণির যতো বেশি সম্ভব মানুষকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা গ্রামে চার শ্রেণির মানুষকে টিকা দেবো। যারা নিবন্ধন করেছেন। যারা নিবন্ধন করেননি তবে জাতীয় পরিচয়পত্র আছে। যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই তবে জন্মনিবন্ধন সনদ আছে এবং যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন সনদও নেই। তিনি বলেন, অর্থাৎ ১৮ বছরের উর্দ্ধের যেকোনো ব্যক্তি টিকা কেন্দ্রে গেলেই করোনার টিকা পাবেন

