সংসদ সদস্যদের সতর্ক করবেন প্রধানমন্ত্রী

আরো পড়ুন

ডেস্ক রিপোর্ট: আসন্ন জাতীয় সংসদ অধিবেশনের কোনো এক ফাঁকে আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের সভা করবে।

জাতীয় সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরু হচ্ছে চলতি মাসেই। এই অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বছরের প্রথম অধিবেশন হিসেবে ভাষণ দিবেন এবং এই অধিবেশনে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তবে এ সংসদের অধিবেশন ছাপিয়ে এবার সংসদের গুরুত্ব বাড়ছে অন্য কারণে। সংসদ অধিবেশনের কোনো এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং ১৪ দলের নেতা দলের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সংসদীয় দলের সভা করবেন। এই সভায় তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হবেন বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। আর এই সংসদীয় দলের সভায় এমপিদেরকে আওয়ামী লীগ সভাপতি সতর্ক করবেন। আগামী দুই বছরের মধ্যে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর এই নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য এযাবতকালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সেই নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতির জন্য ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী বার্তা দিয়েছেন। দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে তিনি নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি সারাদেশে এমপিদের কার্যক্রমের উপর আওয়ামী লীগ সভাপতি তার নিজস্ব উদ্যোগে জরিপ পরিচালনা করেন। এই জরিপে অর্ধেক এমপির অবস্থাই খুব একটা ভাল নয় বলে জানা গেছে।

তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের বেশ কিছু এমপি বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। তারা দলের প্রার্থীর বাইরে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে জেতানোর জন্য বিদ্রোহী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে এবং বিদ্রোহী প্রার্থীকে জেতানোর জন্য নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। এরকম অভিযোগ উঠে এসেছে অন্তত ৮৪ জন এমপির বিরুদ্ধে। ২০১৮ সালের ৩০শে ডিসেম্বর নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান জাতীয় সংসদ গঠিত হয়েছে। এই জাতীয় নির্বাচনে একচ্ছত্র আধিপত্য তিন চতুর্থাংশের বেশি আসনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে। তবে নির্বাচনের পরের তিন বছর এমপিরা কেমন কাজ করেছেন তা নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যেই নানা ধরনের অস্বস্তি রয়েছে। নির্বাচনের পরপরই আওয়ামী লীগের অনেক এমপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এবং এ কারণে আওয়ামী লীগের অনেক এমপি এখন দুদকের তদন্তের মুখোমুখি রয়েছেন। এসমস্ত এমপিদের ভবিষ্যৎ কি হবে সেটি নির্ভর করছে আওয়ামী লীগ সভাপতির সিদ্ধান্তের উপর। নির্বাচনের পরে দেখা গেছে, অনেক এমপি নির্বাচনী এলাকায় যাওয়ার ক্ষেত্রে গড়িমসি করেন এবং নির্বাচনী এলাকার সাথে তাদের সংযোগ নেই বললেই চলে। এ ধরনের এমপিদেরকে নির্বাচনী এলাকায় যাওয়া এবং জনগণের সঙ্গে মেশার ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হবে। আবার দেখা গেছে, অনেক এলাকায় এমপিরা দলের ভেতর অভ্যন্তরীণ কোন্দল করছেন এবং তাদের কারণেই স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগ বিভক্ত হয়ে পড়ছে। এদের সম্পর্কেও সতর্ক বার্তা দিবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। আর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যারা নৌকার বিরোধিতা করেছেন তারাতো আছেনই।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে প্রথমে একটি সংসদীয় দলের সভার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সভাপতি সকল এমপিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করা এবং জনসংযোগ বাড়ানোর নির্দেশনা দিবেন। এরপর যেসমস্ত এমপিরা এলাকায় পিছিয়ে আছেন এলাকার সাথে জনসংযোগ নাই বা এলাকায় নানারকম বিতর্কে জরিয়ে আছেন তাদেরকে পৃথক পৃথক ভাবে ডাকা হবে এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে তাদেরকে ওয়াকিবহাল করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকজন এমপির সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করতে পারেন বলেও আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মহল বলছে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে জরিপের পর একটি তালিকা তৈরি করেছেন এবং এই তালিকায় কোন কোন এমপির অবস্থা খারাপ সেটি নিশ্চিত করা হয়েছে। যাদের অবস্থা খারাপ তারা আগামী দুই বছরে যদি তাদের জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধার না করেন এবং এলাকার যদি তাদের অবস্থার উন্নতি না হয় তাহলে আগামী নির্বাচনে তারা মনোনয়ন নাও পেতে পারেন।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্র বলছে, যদিও এখনো নির্বাচনের দুই বছর বাকি কিন্তু অনেকেই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন না। কারণ আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সভাপতি কোনো বিতর্কিত বা দলের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর কোনো ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিবেন না।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ