শার্শায় নারী ইউপি সদস্যের বিস্ফোরক অভিযোগ: ‘বরাদ্দ আমার নামে হলেও কাজ করে ঠিকাদার’

আরো পড়ুন

যশোরের শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নে নিজের সাংবিধানিক অধিকার ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য রেহেনা খাতুন। তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও তাকে উন্নয়ন কাজে সম্পৃক্ত না করে কেবল ‘স্বাক্ষর দেওয়ার যন্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
মূল অভিযোগ: কায়বা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত এই নারী সদস্য গণমাধ্যমকে জানান, তার নির্বাচনী এলাকায় রাস্তা নির্মাণসহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দ তার নামেই আসে। তবে কাজ বাস্তবায়নের সময় তাকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, “আমাকে উপজেলা অফিসে ডেকে নিয়ে শুধুমাত্র কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। কিন্তু কাজের মান বা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় আমার কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ দেওয়া হয় না।”
দুর্নীতির আশঙ্কা ও দায়মুক্তি: রেহেনা খাতুন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমানে যেভাবে প্রকল্পগুলো পরিচালিত হচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তার দায়ভার তিনি নেবেন না। তিনি বলেন, “আমি নামমাত্র একজন মেম্বার। পর্দার আড়ালে অন্য কেউ কাজ নিয়ন্ত্রণ করছে।”
পিআইও-র বিরুদ্ধে অভিযোগ: এই অনিয়মের পেছনে শার্শা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রঞ্জু সাহেবের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। রেহেনা খাতুনের দাবি, পিআইও পুরো বিষয়টি অবগত এবং অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজগুলো করিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনেও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জনদাবি: এলাকাবাসী মনে করেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন নারী প্রতিনিধির ক্ষমতা এভাবে খর্ব করা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার জন্য নেতিবাচক। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ