দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল চেকপোস্টে ভারতগামী এক পাসপোর্টধারী যাত্রীর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে ভুক্তভোগী সুশান্ত কুমার মজুমদারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: বেনাপোল পৌরসভার বড়আঁচড়া গ্রামের সলেমানের ছেলে হামিদ, ভবারবেড় গ্রামের মতরেবের ছেলে আতিকুর রহমান ও শাহাজাহানের ছেলে রুবেল হোসেন।
ঘটনার বিবরণ: ভুক্তভোগী সুশান্ত কুমার জানান, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে যাওয়ার জন্য তিনি মঙ্গলবার ভোরে বেনাপোল চেকপোস্টে পৌঁছান। বাস থেকে নামামাত্রই ৪-৫ জন তাকে ঘিরে ধরে দ্রুত ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস প্রক্রিয়া শেষ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। পরে তাকে কৌশলে একটি নির্দিষ্ট আস্তানায় নিয়ে জিম্মি করে তার কাছে থাকা নগদ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এই ঘটনায় তিনি দ্রুত পোর্ট থানায় অভিযোগ জানালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে।
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ও পুলিশের ভূমিকা: এই ঘটনার পর বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের কিছু অসাধু সদস্যের ছত্রছায়ায় এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ছিনতাইয়ের টাকার ভাগ নিয়মিত পোর্ট থানা পুলিশের পকেটে যায়, যার ফলে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে চক্রটি দলবদল করে একই কায়দায় পর্যটকদের সর্বস্বান্ত করছে।
চিহ্নিত অপরাধীদের তালিকা: অনুসন্ধানে জানা যায়, বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকার আলোচিত ছিনতাইকারীদের মধ্যে বড়আঁচড়া গ্রামের আনোয়ারের ছেলে বাবু, শাহাজামালের ছেলে মারুফ, ছোটআঁচড়া গ্রামের ইব্রাহিম হোসেন সাগর এবং সাদিপুর গ্রামের এবাদত অন্যতম। এছাড়া চৌধুরী সুপার মার্কেট, সাইদুর সুপার মার্কেট ও রেজাউল সুপার মার্কেটের বেশ কয়েকজন চিহ্নিত পেশাদার ছিনতাইকারী এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে কাজ করছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: * বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন: “আমরা প্রায়ই প্রতারকদের ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করি, কিন্তু তারা ছাড়া পেয়ে পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।”
* ইমিগ্রেশন ওসি সাখাওয়াত হোসেন: “প্রতিদিনই যাত্রীদের অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাচ্ছি। বিভিন্ন সভায় বিষয়টি তোলা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।”
* বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি আশরাফ হোসেন: “গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যায়ক্রমে এই চক্রের সকল সদস্যকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক এই পথ ব্যবহার করেন। ট্রাভেল ট্যাক্স বা কাস্টমসের নাম করে সাধারণ যাত্রীদের নির্দিষ্ট ঘরে নিয়ে কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এই সংস্কৃতি বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতারা।
বেনাপোলে পাসপোর্টধারীর টাকা ছিনতাই: ৩ প্রতারক গ্রেপ্তার, নেপথ্যে পুলিশের ছত্রছায়ার অভিযোগ

