যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের বাদিয়াটোলা গ্রামে কাফনের কাপড়ে রক্ত ও সিঁদুর মাখিয়ে কলাগাছে জড়িয়ে রাখার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার রাতে বাদিয়াটোলা গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় এই ‘কালো জাদু’র ঘটনাটি ঘটে।
যেভাবে জানাজানি হলো
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে এক নারী রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ কলাগাছে কাফনের কাপড় জড়ানো এবং তাতে রক্ত ও সিঁদুরের দাগ দেখে ভয়ে চিৎকার করে দৌড় দেন। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে বিষয়টি জানাজানি হয়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় করে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই গ্রামের মৃত ইকরাম বিশ্বাসের ছেলে আব্দুর রশিদ তাঁর অসুস্থ স্ত্রীর আরোগ্যের জন্য জনৈক কবিরাজের পরামর্শে এই কাজ করেছেন। আব্দুর রশিদের ছেলে সাদেক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, “আমার মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তাঁকে সুস্থ করতেই কবিরাজের কথা অনুযায়ী আমরা এই নিয়ম (কালো জাদু) পালন করেছি।”
গ্রামবাসীরা জানান, কাফনের কাপড়ে এমন ভীতিকর সজ্জা দেখে বিশেষ করে নারী ও শিশুরা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এমন কাজ করার আগে গ্রামবাসীকে অন্তত জানানো উচিত ছিল, যাতে মানুষ এভাবে আতঙ্কিত না হতো। অনেকেই একে কুসংস্কার ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে দেখছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে সাজিয়ালি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আব্দুর রউফ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি কাপড়গুলো সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করেন এবং স্থানীয়দের বুঝিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
এসআই আব্দুর রউফ জানান, “প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, পরিবারের কোনো সদস্যের অসুস্থতা মুক্তির জন্য তারা এই তান্ত্রিক পদ্ধতি অবলম্বন করেছিল। কোনো অসৎ উদ্দেশ্য না থাকলেও জনমনে ভীতি সৃষ্টি হওয়ায় তাঁদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে।”

