যশোর আইটি পার্কে চালডালের কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ: বকেয়া বেতন ও বোনাসের আশ্বাসে ৩ দিনের আন্দোলনের অবসান

আরো পড়ুন

যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে অবস্থিত দেশের অন্যতম শীর্ষ ই-কমার্স স্টার্টআপ ‘চালডাল ডট কম’-এর বকেয়া বেতনের দাবিতে দীর্ঘ তিন দিনের চরম উত্তেজনা ও আন্দোলনের অবসান ঘটেছে। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ডিসেম্বর মাসের বকেয়া বেতন প্রাপ্তি এবং জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসের পাওনা ও উৎসব ভাতা পরিশোধের লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পর আন্দোলন স্থগিত করেছেন বিক্ষুব্ধ কর্মীরা। আগামীকাল বুধবার থেকে প্রতিষ্ঠানটির যশোর অফিসের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে।
:
গত ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ সংকটের কারণে গত তিন মাস ধরে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন প্রতিষ্ঠানটির কয়েকশ কর্মী। বকেয়া আদায়ের দাবিতে গত তিন দিন ধরে সেখানে অস্থিরতা চলছিল। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে চালডালের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) মাহবুব এম এম মুনতাসিন যশোর অফিসে এসে কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে বসলে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে।
বৈঠকে সিওও কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “যারা কোম্পানির এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধরে পাশে থাকতে পারবেন, তাদের এভাবেই কাজ করতে হবে। আর যারা এখনই সব পাওনা চান, তাদের পদত্যাগ করে চলে যেতে হবে।” বকেয়া পরিশোধ না করে এমন ‘অমানবিক’ প্রস্তাবের পর কর্মীদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় এবং তারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

আন্দোলনরত কর্মীরা তাদের পাওনা আদায়ের দাবিতে সিওও মাহবুব এম এম মুনতাসিনকে বৈঠক কক্ষে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। এ সময় ‘সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশন’-এর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও দীর্ঘ সময় কোনো সুরাহা হয়নি। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরো আইটি পার্ক এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একদিকে চাকরি হারানোর ভয়, অন্যদিকে পাওনা আদায়ের মরণপণ লড়াইয়ে শত শত কর্মী সেখানে অবস্থান নেন।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে রাত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ নমনীয় হতে বাধ্য হয়। মঙ্গলবারই কর্মীদের ডিসেম্বর মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়। এরপর উভয় পক্ষের সম্মতিতে একটি লিখিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
* জানুয়ারি মাসের বেতন: আগামী ১০ মার্চের মধ্যে পরিশোধ করা হবে।
* ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন: ২৩ থেকে ৩০ মার্চের মধ্যে দেওয়া হবে।
* উৎসব ভাতা: আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বোনাস প্রদান করা হবে।
* নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: আন্দোলনের সাথে জড়িত থাকার কারণে কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

লিখিত এই নিশ্চয়তা পাওয়ার পর রাত ৮টার দিকে কর্মীরা তাদের অবরোধ তুলে নেন এবং সিওও মুক্ত হন। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর কর্মীদের মুখে কিছুটা স্বস্তির হাসি দেখা দিলেও অনেকের মনে এখনো শঙ্কা রয়ে গেছে যে কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না। তবে আপাতত কাল থেকে চালডালের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন কর্মীরা।
?

আরো পড়ুন

সর্বশেষ