হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘোষণা ইরানের: বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় লাফ

আরো পড়ুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, এই জলপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটিকে ‘জ্বালিয়ে’ দেওয়া হবে। সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে আইআরজিসি-র প্রধান কমান্ডারের সিনিয়র উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারির এই কঠোর বক্তব্য প্রকাশিত হওয়ার পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
:
ইরান এই প্রণালীটি বন্ধের দাবি করলেও মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, জলপথটি এখনো নৌ-চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে সোমবারই আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালীতে ‘আথে নোভা’ নামের একটি মার্কিন সংশ্লিষ্ট তেলের ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, দুটি ড্রোন আঘাত হানার পর ট্যাঙ্কারটিতে এখনো আগুন জ্বলছে।

বর্তমান এই অচলাবস্থার সূত্রপাত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার পর। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর আসার পর তেহরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সংঘাত চূড়ান্ত রূপ নেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান কেবল হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকিই দেয়নি, বরং ইসরায়েলসহ কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
:
মাত্র ৩৩ কিলোমিটার প্রশস্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বড় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর রপ্তানি রুট মূলত এটিই। ইরানের এই কড়া অবস্থানের ফলে সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পর এবার হরমুজ প্রণালীতে এই সরাসরি সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তা ও জ্বালানি সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ