যশোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীনের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ রোববার (১ মার্চ) দুপুরে আদালত চত্বরে চরম উত্তেজনা ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের কার্যক্রম মুলতবি ঘোষণা করতে বাধ্য হন বিচারক।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে এজলাসে বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে আইনজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনজীবীরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানান এবং আদালত মুলতবি করার দাবি তোলেন। পরে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীন আবেদনটি মঞ্জুর করে এজলাস ত্যাগ করেন।
আইনজীবীদের অভিযোগ
যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম. এ. গফুর জানান, ভারপ্রাপ্ত বিচারকের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় সুলভ আচরণ না করার অভিযোগ রয়েছে সাধারণ আইনজীবীদের। তিনি বলেন:
> “ভারপ্রাপ্ত বিচারক আইরিন পারভীন বিচার বিভাগীয় মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন না—এমন ক্ষোভ থেকেই আজকের এই পরিস্থিতি। আমরা বিষয়টি নিয়ে বিচারকের সঙ্গে আলোচনায় বসব এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করব।”
>
অন্যদিকে, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বিষয়টিকে ‘সামান্য ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে দেখছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আলোচনার মাধ্যমেই আজ এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
সংকটের মূলে ‘স্থায়ী বিচারক’ শূন্যতা
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যশোরে দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী জেলা ও দায়রা জজ না থাকায় বিচারিক কাজে স্থবিরতা নেমে এসেছে। পরিসংখ্যান বলছে:
* ২৮ আগস্ট, ২০২৫: তৎকালীন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ নাজমুল আলমের বদলি।
* ৫ নভেম্বর, ২০২৫: মোহাম্মদ আলী যোগদান করেন, তবে মাত্র দুই মাস পর ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ এ তারও বদলি হয়।
* বর্তমান অবস্থা: এরপর থেকেই অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজদের দিয়ে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কাজ চালানো হচ্ছে।
সেবা প্রত্যাশীদের ভোগান্তি
সিনিয়র আইনজীবীরা বলছেন, ভারপ্রাপ্ত বিচারকের হাতে পূর্ণ ক্ষমতা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব হয় না। এতে আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের ওপর। কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন সাধারণ মানুষও।

